Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মা-বোনেদের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’, বাংলায় নারী নির্যাতনকারীদের দিন শেষ: রাজ্যপালের কড়া বার্তা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় আর চলবে না মা-বোনেদের ওপর অত্যাচার, শেষ হচ্ছে অপরাধীদের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়ার চেনা ছক। আজ, ১৮ জুন, নতুন বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে মহামান্য রাজ্যপাল আরএন রবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, নারী সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন বিজেপি সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা কঠোরতম নীতি গ্রহণ করবে। বিগত জমানায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এক বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। রাজ্যপালের এই ঐতিহাসিক ঘোষণা বুঝিয়ে দিয়েছে, নতুন প্রশাসনের কাছে রাজ্যের নারী শক্তির সম্মান ও সুরক্ষাই সবার আগে।

ভাষণে সরাসরি নাম না নিলেও, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং অপরাধীদের আড়াল করার যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছিল, তার দিকেই ছিল রাজ্যপালের কড়া ইঙ্গিত। সন্দেশখালির মা-বোনেদের ওপর চলা দীর্ঘদিনের নির্যাতন এবং প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলেছিল। মহামান্য আদালতও এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। রাজ্যপাল আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন, সন্দেশখালির মতো লজ্জাজনক অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি এই বিজেপি সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। অতীতে নারী নির্যাতনের বহু ঘটনায় অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ বারেবারে উঠেছিল। রাজ্যপাল সাফ জানিয়েছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক রঙ বা পরিচয় দেখা হবে না।

রাজ্যপাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় মহিলাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে মূলত এই তিনটি বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। নারী নির্যাতনের যেকোনো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্যজুড়ে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট কার্যকর করা হবে, যাতে অপরাধীরা দ্রুত সাজা পায় এবং কোনো ফাঁক গলে পার না পেয়ে যায়। নারীদের অভিযোগে কান না দিলে বা তদন্তে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে মহিলাদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টার আধুনিক হেল্পলাইন এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে সিসিটিভি (CCTV) নজরদারি ও মহিলা পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যপালের এই ভাষণ আসলে বাংলার নারী সমাজকে সম্মান ও সামাজিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকারপত্র। যে রাজ্যকে নারী সুরক্ষায় দেশের তলানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠত, সেখানে নতুন সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে। রাজ্যের মহিলারাও নতুন প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন।

Exit mobile version