প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার নির্বাচন মানেই নতুন সমীকরণ, আর আজ পূর্বস্থলীর মাটি থেকে সেই সমীকরণকে এক ধাক্কায় বদলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তপ্ত রোদে সকাল ১১ টার জনসভায় ভিড়ের এমন পাহাড়প্রমাণ বহর দেখে খোদ প্রধানমন্ত্রীও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি এমন এক মন্তব্য করলেন যা কার্যত রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। নিজের খাসতালুক গুজরাটের সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে মোদী বুঝিয়ে দিলেন, এবারের লড়াইয়ে পাল্লা কোন দিকে ভারী।
এদিন পূর্বস্থলীর সভা শুরু হতেই মাঠের চারদিকে থৈ থৈ ভিড় দেখে অভিভূত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। মাইক হাতে নিয়েই তিনি বলেন, “আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। গুজরাতেও সকাল ১১টা-১২টায় আমি এমন সভা করতে পারি না। চাইলেও সেখানে এত সকালে এত বড় জমায়েত করা সম্ভব হয় না। আপনারা প্রতিবার এখানে এসে যে আশ্চর্য জমায়েত করেন, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত।” প্রধানমন্ত্রীর এই অকপট স্বীকারোক্তি থেকে স্পষ্ট যে, বাংলার মানুষের উৎসাহ দেখে তিনি নিজেও আজ বিস্মিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের জন্মরাজ্য ও বিজেপির দুর্গের সঙ্গে বাংলার তুলনা টেনে মোদী আসলে বুঝিয়ে দিলেন যে বঙ্গে পদ্ম শিবিরের প্রতি জনসমর্থন এখন তুঙ্গে।
ভিড়ের মেজাজ বুঝে এদিন মোদী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দেন। উপচে পড়া ভিড়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি জোর গলায় দাবি করেন, “আপনারা এখানে যে ভিড় করেছেন, তা বলে দিচ্ছে বাংলায় এবার হাওয়া কোন দিকে। আমি নিশ্চিত করে বলছি, এই সভা থেকেই প্রমাণ হয়ে গেল যে ৪ মে-র পর বাংলায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।” মোদীর এই ‘পরিবর্তনের গ্যারান্টি’ নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা যখন মোদী ম্যাজিক ম্লান হওয়ার দাবি করছে, তখন পূর্বস্থলীর এই ভিড় যেন বিজেপির পালে নতুন হাওয়া দিল।
পূর্বস্থলীর এই এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে সাতসকালে হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান দেখে বিজেপি নেতৃত্ব উজ্জীবিত। মোদী বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা এবং যুবসমাজ যেভাবে রোদ উপেক্ষা করে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন, তা আমার কাছে ঋণের মত। আমি উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঋণ শোধ করব।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বাংলার মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং দুর্নীতির অবসান চান। আর সেই কারণেই এই অভূতপূর্ব জমায়েত।
সব মিলিয়ে, পূর্বস্থলীর সভা থেকে মোদী আজ কেবল ভাষণ দিলেন না, বরং নিজের রাজ্যের উদাহরণ টেনে বাংলার বিজেপি কর্মীদের মনে এক নতুন জেদ ঢুকিয়ে দিয়ে গেলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘গুজরাতেও অসম্ভব’—এই কথাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এখন দেখার, এই জনজোয়ার শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
