প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ফের বিতর্কের শিরোনামে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তবে এবার কোনো সংসদীয় ইস্যু নয়, সরাসরি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গুজরাতি ভাবাবেগে চরম আঘাত করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। আর এই স্পর্শকাতর ইস্যুতেই মহুয়া মৈত্র তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে অবতীর্ণ হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিধায়কের সাফ কথা, “এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের মানুষের অপমান নয়, বরং ভারতের অখণ্ডতা এবং বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের চরম অবমাননা”।
সম্প্রতি একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের পোর্টাল) সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে মহুয়া মৈত্রকে দাবি করতে শোনা যায় যে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালির অবদান ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি সেলুলার জেলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, আন্দামানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ৬৮ শতাংশই ছিলেন বাঙালি। কিন্তু বিতর্কের আগুন জ্বলে ওঠে যখন তিনি অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে প্রশ্ন করেন, “সেই সময় গুজরাতিরা কোথায় ছিল?” শুধু তাই নয়, মহুয়া আরও দাবি করেন যে, বীর সাভারকর ছাড়া তিনি কোনো গুজরাতি স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম জানেন না, যিনি ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। মহুয়ার এই ধৃষ্টতা প্রকাশ্যে আসতেই হাত গুটিয়ে বসে থাকেননি শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে ওই ভিডিও পোস্ট করে আগ্নেয়গিরির মত ফেটে পড়েন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল সাংসদ জেনেশুনে ভারতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে খাটো করছেন এবং প্রাদেশিক বিভেদ তৈরি করার এক ‘বিপজ্জনক খেলা’ খেলছেন। শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, “মহাত্মা গান্ধী বা সর্দার বল্লভভাই পটেল কি তবে স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না? মহুয়া মৈত্র কি তবে তাঁদের অবদানকেও অস্বীকার করছেন?” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, যে সর্দার পটেল ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে একজোট করে আজকের অখণ্ড ভারত গড়েছিলেন, তাঁর উত্তরসূরিদের নিয়ে এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য আদতে রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দেউলিয়া রাজনীতি ঢাকতে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ছক কষছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মহুয়া মৈত্রের এই হঠকারী মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসকে বড়সড় বিড়ম্বনায় ফেলেছে। বিশেষ করে সামনে যখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, তখন একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের ‘বিদ্বেষমূলক’ মন্তব্য হিতে বিপরীত হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারী ঠিক এই জায়গাটিকেই নিশানা করেছেন। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, তৃণমূল মুখে সৌজন্যের কথা বললেও তলে তলে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতিতে বিশ্বাসী।
বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, মহুয়া মৈত্র যেভাবে বীর সাভারকর বা গুজরাতি সম্প্রদায়কে আক্রমণ করেছেন, তার জবাব দেশের মানুষ কড়ায়-গণ্ডায় দেবে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ঝাঁঝালো’ আক্রমণের পর থেকেই উত্তাল নেটপাড়া। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে— কেন ভোটের রাজনীতির জন্য বারবার প্রাদেশিকতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে? শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের ‘ঘৃণা’ ছড়ানোর রাজনীতিকে বাংলার মানুষ আর মেনে নেবে না। এখন দেখার, এই বিতর্কের জেরে মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কোনো মোড় আসে কি না। বিরোধী দলনেতার এই তর্জন-গর্জনে এখন কার্যত ব্যাকফুটে শাসক শিবির।
