Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

আঙুলের ছাপ নিয়ে রেশন গায়েব! গুমায় খোদ মন্ত্রীর সামনে ডিলারের কাণ্ড দেখে থমকে গেল এলাকা, তারপর….

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ডিজিটাল মেশিনে উপভোক্তাদের আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পাঞ্চ নেওয়া হচ্ছিল নিয়ম করে। কিন্তু রেশন সামগ্রী দেওয়ার সময় মিলছিল শুধু ‘মাল আসেনি’ কিংবা ‘স্টক শেষ’ অজুহাত। উত্তর ২৪ পরগনার গুমার বড়বামুনিয়া বিশ্বাসপাড়া এলাকায় মাসের পর মাস ধরে চলা এই রেশন দুর্নীতির জল শেষমেশ গড়াল খোদ খাদ্যমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত। আর তার পরিণতি যা হলো, তা দেখে কার্যত তাজ্জব বনে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা! মন্ত্রীর আকস্মিক অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ে প্রকাশ্যেই কান ধরে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হলেন অভিযুক্ত রেশন ডিলার।

গুমার ওই নির্দিষ্ট রেশন ডিলার শ্যামল সাহার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল গ্রাহকদের মনে। অভিযোগ ছিল, গ্রাহকদের কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার নাম করে বায়োমেট্রিক সই সংগ্রহ করা হলেও রেশন দেওয়া হতো না, কারও আবার রেশন কার্ড মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো। এই চরম অব্যবস্থার খবর পৌঁছায় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই খাদ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সোজা গুমার ওই বিতর্কিত গোডাউনে আচমকা হানা দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী গোডাউনে প্রবেশ করতেই দুর্নীতির সমস্ত প্রমাণ হাতেনাতে সামনে চলে আসে। বাইরে যখন সাধারণ মানুষ খালি হাতে ফিরছিলেন, তখন গোডাউনের ভেতরে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য। মন্ত্রীকে সামনে পেয়েই এলাকার মহিলারা ও সাধারণ উপভোক্তারা তাঁদের জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং মন্ত্রীর কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়ে অভিযুক্ত রেশন ডিলার শ্যামল সাহা সবার সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং “স্যার, ভুল হয়ে গেছে” বলে কান ধরে ওঠবস করে ক্ষমা চাইতে শুরু করেন। তবে খাদ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “দরিদ্র মানুষের রেশন যারা চুরি করছে, তাদের কোনও ক্ষমা নেই।”

মন্ত্রী ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই দ্রুত কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত রেশন ডিলার শ্যামল সাহার ওই বিতর্কিত গোডাউনটি সঙ্গে সঙ্গে সিল করে দেওয়া হয়।গোডাউনে থাকা সমস্ত চাল, ডাল এবং খাদ্যশস্য সরকারি হেফাজতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে অশোকনগর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত রেশন ডিলারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ওই ডিলারের লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। অভিযান শেষে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া স্পষ্ট জানান, রেশনের লাইসেন্স নিয়ে যারা সাধারণ মানুষের চাল-গম চুরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। এর পেছনে কোনও বড় মাথার হাত থাকলেও পার পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

Exit mobile version