প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই এসআইআরের বিরোধিতা করছেন। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর তার আশঙ্কা বহু গুনে বেড়ে গিয়েছে। তিনি ধরেই নিয়েছেন যে, তার আর ক্ষমতায় আসা হবে না। আর সেই কারণে এখন ধর্না দেওয়ার মত নাটক শুরু করেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষ করে তেমনটাই বলছে বিরোধীরা। আর আতঙ্ক যে তৃণমূলের কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আজ আবার স্পষ্ট হয়ে গেল। যখন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিজের ফুল বেঞ্চ নিয়ে রাজ্যে এসেছেন, ঠিক তখনই গতকাল বিক্ষোভের পর আবার তিনি যখন আজ কালীঘাট মন্দিরে গিয়েছেন, সেখানেও কিছু মানুষ তাকে গো ব্যাক স্লোগান এবং বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, এই বিক্ষোভকারীরা কারা? হয়ত তৃণমূলেরই কেউ। তারাই হয়ত ইচ্ছাকৃতভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে এই ধরনের বিক্ষোভ দেখিয়ে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইছে। আর সেই বিষয়টি তুলে ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এতদিন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিস কুমার বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তার ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে না থাকলে জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কেটে দিয়ে আসতেন বলে মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস যে সংবিধানকে মানছে না, এমনকি এতদিন অবৈধ ভোটারদের ভোটার তালিকায় রেখে কারচুপি করে জিতে আসলেও, এবার যে তাদের পক্ষে আর তার সম্ভব হবে না এবং এই অসম্ভব কাজ যে জ্ঞানেশ কুমার এবং তার ফুল বেঞ্জ করে দেখিয়েছে, তা রাজ্যের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর অবৈধ ভোটারদের ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না বুঝেই যে জ্ঞানেশ কুমারের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দলের এত রাগ, সেই বিষয়টি নিয়েও দ্বিমত নেই বিভিন্ন মহলে। আর তার মাঝেই রাজ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আসার পর যেভাবে তাকে পরপর বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে, এর পেছনে যে তৃণমূল কংগ্রেসই জড়িত, তা জানিয়ে দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই জ্ঞানেশ কুমারকে পর পর বিক্ষোভ প্রদর্শন করা নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করাচ্ছেন। কিছু তৃণমূলের সাঙ্গপাঙ্গ এবং কিছু দুধেল গাই আছে, তারা এই কাজ করছে। তবে এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো যোগ নেই। সাধারন মানুষ এই বিক্ষোভের মধ্যে নেই। এসআইআর তো নতুন কিছু নয়। এসআইআর এর আগেও হয়েছে, এবারও হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, নির্বাচন কমিশনকে ভয় দেখিয়ে এই এসআইআর বন্ধ করতে।”
