Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আমি আগে জানলে আটকে দিতাম!” মেদিনীপুরের শিল্পসভায় প্রবীণ শিশির অধিকারীকে সামনে দেখে হঠাৎ একি বললেন মুখ্যমন্ত্রী!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঠিক যেন কোনো টানটান রাজনৈতিক থ্রিলারের ক্লাইম্যাক্স! পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক মেগা শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় ঘটনা। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (HPL) সম্পূর্ণ সহযোগী সংস্থা ‘অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নবনির্মিত এক মেগা রাসায়নিক উৎপাদন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হলো, যা দেখে মঞ্চে উপস্থিত সকলের চোখ কপালে উঠল! অনুষ্ঠান তখন মাঝপথে, বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক সেই সময় সেখানে আচমকা প্রবেশ ঘটে মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম প্রবীণ চাণক্য তথা মুখ্যমন্ত্রীর পিতা শিশির অধিকারীর! জনসমক্ষে পিতাকে সামনে দেখে আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় গোটা সভার পরিবেশ। বক্তব্য মাঝপথে থামিয়েই প্রবীণ পিতাকে উদ্দেশ্য করে এক নজিরবিহীন ও রহস্যময় মন্তব্য করে বসেন তিনি, যা শুনে এক মুহূর্তের জন্য থমকে যান উপস্থিত দর্শকরাও!

বয়সের কারণে ইদানীং শিশির অধিকারীকে প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে বা রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায় না বললেই চলে। কিন্তু মেদিনীপুরের সার্বিক শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে প্রবীণ নেতা যে এখনও কতটা সক্রিয়, তা আজ প্রমাণিত হলো এই মেগা অনুষ্ঠানে তাঁর সশরীরে উপস্থিতি দেখেই। মঞ্চ থেকেই বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম জ্ঞাপন করে দর্শকদের আসল রহস্য খটকা দূর করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন: “আমি শিশির অধিকারীকে প্রণাম জানাব। আমি ওঁর পুত্র বটে। তবে তিনি যে এই অনুষ্ঠানে আসছেন তা যদি আমি আগে থেকে জানতাম, তাহলে এই বয়সে ওঁকে আসতে বারণ করতাম, আটকে দিতাম। কিন্তু ওঁকে তো আটকে রাখা মুশকিল! উনি এই বয়সেও সব সময় ভাল কাজের সাথে যুক্ত থাকতে ভালোবাসেন। উনি আজ এখানে এসেছেন যাতে পূর্ব মেদিনীপুরে আরও বেশি করে উন্নয়ন ঘটানো যায়।”

পারিবারিক আবেগের এই নাটকীয় মুহূর্তের পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে রাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত তৃণমূল জমানার নাম না করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এতদিন বাংলা কেবল ‘ভাতা নির্ভর’ হয়ে পড়েছিল। এবার সেই দিন শেষ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশকে যেভাবে আত্মনির্ভর করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে এবার আমাদের রাজ্যকেও আত্মনির্ভর হতে হবে।” হলদিয়ার এই নতুন প্ল্যান্ট চালুর ফলে দেশীয় রাসায়নিক উৎপাদনে এক বিশাল জোয়ার আসবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর মুখে পিতার এই ভূয়সী প্রশংসা স্বভাবতই অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনা শুধু পারিবারিক স্নেহের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং পূর্ব মেদিনীপুরের বুকে নতুন শিল্প বিপ্লবের স্বার্থে এক ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের প্রতীক। একদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে ঘরের ছেলের পিতৃভক্তি—সব মিলিয়ে হলদিয়ার এই মেগা মঞ্চ আজ এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে রইল।

Exit mobile version