Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“১০০ বছরেও পাপমোচন হবে না!” হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মমতার সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি মোদির, ফাঁস করলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ললাটে যে বঞ্চনার ইতিহাস লিখেছে তৃণমূল, তা আগামী ১০০ বছরেও মুছে ফেলা সম্ভব নয়! ২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে আজ হলদিয়ার মাটি থেকে এভাবেই গর্জে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে সিন্ডিকেট রাজ— প্রতিটি কাঁটাছেঁড়া করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “তৃণমূল যা করেছে, তার মাসুল গুনতে হবে কয়েক প্রজন্মকে।”‘

এদিন জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে মোদী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সমাধি ঘটেছে শুধুমাত্র ‘ভয়’ আর ‘তোলাবাজির’ কারণে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগ আর কারখানা গড়ে ওঠে ভরসায়, শাসকের রক্তচক্ষু দেখিয়ে নয়। কিন্তু আজ বাংলায় পা রাখলেই সিন্ডিকেটের গুন্ডারাজ, কাটমানি আর কমিশন ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। খোদ কারখানাতেও থাবা বসিয়েছে সিন্ডিকেটের গুন্ডারা। এই ভয়ের রাজত্ব সরিয়ে একমাত্র বিজেপিই পারে বাংলায় বিনিয়োগের সোনার দিন ফিরিয়ে আনতে।”

বাংলার লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ রীতিমত আক্রমণাত্মক ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “সরকারি চাকরির বাজারকে পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন তৃণমূলের মন্ত্রীরা। যোগ্য প্রার্থীদের রক্ত জল করা স্বপ্নকে পদদলিত করে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে তৃণমূল। আজ বাংলার যুবকরা পরীক্ষা দিতে গিয়েও থমকে যায়, মনে শঙ্কা দানা বাঁধে— পরীক্ষা তো দিচ্ছি, কিন্তু ফলাফল কি আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে?”

কর্মসংস্থান ইস্যুতে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের যেটুকু সুযোগ ছিল, ভোটব্যাংকের রাজনীতি করতে গিয়ে তাও অনুপ্রবেশকারীদের হাতে বিলিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ফলে ঘরের ছেলেরা আজ ঘরছাড়া, ভিন রাজ্যে তারা আজ পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলার মেধাকে আজ অবহেলা আর ধোঁকার শিকার হতে হচ্ছে।”

বক্তৃতার শেষে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর উন্নয়নের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, “যেখানে যেখানে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার আছে, সেখানে উন্নয়নের জোয়ার প্রমাণ করে যে বাংলায় বিজেপি এলে এই ভয়ের পরিবেশ চিরতরে বিদায় নেবে। ২০২৬-এ বাংলায় পরিবর্তনের ঢেউ আসবেই। বাংলার হারানো গৌরব আর যুবকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।”

হলদিয়ার এই জনসভায় মোদীর ‘১০০ বছরের ক্ষতির’ তত্ত্ব এবং আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে রাজনৈতিক মহলের মত, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই ইস্যুগুলোই তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বিজেপি শিবিরের দাবি, আজকের এই সভাই বাংলায় নতুন ভোরের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Exit mobile version