প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বাজতেই কি চরম স্নায়ুর চাপে ভুগছে ঘাসফুল শিবির? উত্তরবঙ্গ সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ঠিক আগেই মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI)। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার আশঙ্কায় এখন থেকেই ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলতে শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে এই বিস্ফোরক অভিযোগের আড়ালে কি পরাজয়ের আগাম অজুহাত?
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ যাত্রার প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন নাকি নিরপেক্ষ নয় এবং তারা সরাসরি বিজেপির হয়ে কাজ করছে। এমনকি কমিশনের লেটারহেডে ‘বিজেপির স্ট্যাম্প’ রয়েছে বলেও বিতর্কিত দাবি করেন তিনি। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ব্যাকডোর থেকে খেলছেন কেন? সামনাসামনি খেলুন।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাল্টা প্রশ্ন— অবাধ ও লুঠতরাজহীন ভোটের পরিবেশ তৈরি হতেই কেন এত অস্বস্তি তৃণমূল শিবিরের? তবে কি ছাপ্পা ও বুথ দখলের পুরনো ফর্মুলা এবার খাটবে না বুঝেই কমিশনকে ‘বিজেপির দাস’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চলছে?
কমিশনের একটি নোটিফিকেশনে প্রতীকের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক স্তরে অফিসারদের রদবদল নিয়ে ফের ‘বাঙালি-বিরোধী’ ও ‘মহিলা-বিরোধী’ আবেগ উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মমতা। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নিজের পছন্দের অফিসারদের সরাতেই পায়ের তলার মাটি কাঁপছে নবান্নের। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর দায় চাপিয়ে নিজের ব্যর্থতা ও ক্রমবর্দ্ধমান জনবিচ্ছিন্নতা ঢাকার এই কৌশল মমতার পুরনো দস্তুর।
বিজেপি শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন যে মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছে। তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন থেকেই অজুহাত সাজানোর চিত্রনাট্য তৈরি করছেন তিনি। একদিকে সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) মামলায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পিছুটান, আর অন্যদিকে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন— সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরের আগে মমতার এই রণংদেহি মেজাজ আসলে তৃণমূলের ভেতরকার গভীর অস্থিরতাকেই প্রকট করছে।
