প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয়ের সংকেত! কয়েক দশকের অবহেলা আর বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে ‘পাহাড়ের রানি’ দার্জিলিংকে বিশ্বমানের উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার মোক্ষম চাল চাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সাম্প্রতিক ঘোষণায় এখন রীতিমতো তোলপাড় গোটা রাজ্য। শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, আস্ত এক ‘রোডম্যাপ’ সামনে এনে শাহ স্পষ্ট করে দিলেন— নতুন সরকারের পাখির চোখ এখন দার্জিলিংয়ের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার।
অমিত শাহের ঘোষণায় সবথেকে বড় চমক হলো দার্জিলিংকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং একে ঢেলে সাজানো। পর্যটন শিল্পে এমন আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা আগে কখনও দেখা যায়নি। শাহের মতে, দার্জিলিংয়ের পাহাড় আর চা-বাগানের ঐতিহ্যকে স্রেফ রক্ষা করা নয়, তাকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা হবে। এর ফলে পাহাড়ে যে বিপুল কর্মসংস্থানের জোয়ার আসবে, তা কয়েক দশকের বেকারত্ব ঘুচিয়ে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত পাঁচ দশকে বাংলাকে যেভাবে নীচে নামানো হয়েছে, তার বদলা নিতে এবার ‘সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ’-এর ডাক দিয়েছেন তিনি। শাহ সাফ জানিয়েছেন, “ভয়রহিত ও ভরসাযুক্ত বাংলা গড়াই আমাদের সংকল্প।” পাহাড় থেকে সমতল— সর্বত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং অনুপ্রবেশ মুক্ত সমাজ গড়ার সংকল্প নিয়েছে বিজেপি।
পাহাড়বাসীর জন্য কী থাকছে শাহের মাস্টারপ্ল্যানে? ‘হেরিটেজ’ তকমার মাধ্যমে দার্জিলিংকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গন্তব্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য ব্যাপক কাজের সুযোগ। ধুঁকতে থাকা চা-বাগান ও কৃষকদের উন্নয়নে বিশেষ প্যাকেজ ও আধুনিকীকরণ। সিন্ডিকেট আর দুর্নীতির নাগপাশ থেকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই ‘সংকল্পপত্র’ কেবল নির্বাচনী চাল নয়, বরং উত্তরবঙ্গকে পুনরায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসানোর এক ঐতিহাসিক ব্লু-প্রিন্ট। শাহের এই ঘোষণায় পাহাড়বাসীর মনে যেমন আশার আলো ফুটেছে, তেমনই বিরোধীদের পায়ের তলার মাটিও সরতে শুরু করেছে।
