প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক সরকারি দফতরে ঝটিকা সফর ও প্রশাসনিক সংস্কার শুরু করেছে নতুন বিজেপি সরকার। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সল্টলেকের স্বাস্থ্যভবন। গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) স্বাস্থ্যভবনে এক সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়ে গ্রাউন্ড ফ্লোরে দশক ধরে জমে থাকা ‘চিঠির পাহাড়’ দেখে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হাজার হাজার সরকারি চিঠির এই চরম অবহেলা দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং অবিলম্বে সমস্ত চিঠির দ্রুত জবাব দেওয়ার কড়া নির্দেশ জারি করেছেন।
স্বাস্থ্যভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে থাকা রিসিভিং ও ডেসপ্যাচিং সেকশনে বছরের পর বছর, এমনকি দশক ধরে জমে রয়েছে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার চিঠি। কারও আবেদন ছিল চিকিৎসার সাহায্যের জন্য, কারও বা অনুরোধ ছিল বদলি বা জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এই বিপুল পরিমাণ চিঠির দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি, শোনার বা পড়ার মতো ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখায়নি কেউ। প্রশাসনের এই চরম গাছাড়া মনোভাব দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন—”কেন দশকের পর দশক ধরে এই চিঠিগুলি এভাবে ফেলে রাখা হয়েছে? কেন কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি?”
চিঠির স্তূপ দেখে ক্ষিপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবিলম্বে ওই সেকশনের দায়িত্বে থাকা নোডাল কর্মীকে ডেকে পাঠান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগকে এভাবে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা নতুন সরকারের আমলে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই সেকশনে শুধু সাধারণ মানুষের চিঠিই নয়, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পাঠানো হাজার হাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিঠিও ধুলো জমিয়ে পড়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সমস্ত জমে থাকা চিঠির ফাইল অবিলম্বে খোলার ব্যবস্থা করতে হবে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রতিটি চিঠির আইনি ও প্রশাসনিক উত্তর পাঠাতে হবে।”
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিগত তৃণমূল জমানায় স্বাস্থ্য দফতরে কীভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হতো, স্বাস্থ্যভবনের এই চিঠির পাহাড় তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা ‘লাল ফিতের ফাঁসি’ এবং আলসেমি এবার উপড়ে ফেলা হবে। সাধারণ মানুষের ছোট থেকে ছোট অভিযোগ বা চিঠির দ্রুত নিষ্পত্তি করাই হবে এই নতুন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা অ্যাকশনের পর স্বাস্থ্যভবনের অলস কর্মীদের মধ্যে এখন তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
