প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত দেড় দশকে বাংলার যুবসমাজের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির নাম ছিল ‘চাকরি চুরি’। মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে থেকেও যোগ্য প্রার্থীদের রাস্তায় বসে চোখের জল ফেলতে হয়েছে, আর অযোগ্যরা টাকার বান্ডিল ছুড়ে সরকারি চেয়ার দখল করেছে। শিক্ষা দফতরের গায়ে লাগা সেই দুর্নীতির কালিমোছা এবং অবরুদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আজ, বুধবার দুপুরে বিকাশ ভবনে পা রেখেই সেই জ্বলন্ত সমস্যারে ওপর হাত দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের নামে কোনো রকম তোলাবাজি বা কাটমানি কালচার এবার আর বরদাস্ত করা হবে না। সব ক্ষেত্রে হবে সম্পূর্ণ ‘ঘুষ-মুক্ত’ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ।
আজকের এই ঐতিহাসিক পদভার গ্রহণের দিনেই মন্ত্রী শুধু আশ্বাসের বাণী শোনাননি, বরং একপ্রকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। বিকাশ ভবনের আধিকারিকদের সাথে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করেই তিনি স্পষ্ট করেন, বিগত জমানার মতো বছরের পর বছর নিয়োগ আটকে রেখে যুবসমাজকে আদালতের দরজায় ঘোরানোর দিন এবার শেষ। এবার থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার সাথে সিএসসি (CSC), পিএসসি (PSC) এবং এসএসসি (SSC) পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই অন-রেকর্ড ঘোষণা আসলে সেই সমস্ত বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের বুকে আশার আলো জোগাল, যাঁরা এতদিন যোগ্য হয়েও স্রেফ রাজনৈতিক স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির শিকার হচ্ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান বিগত প্রশাসনের অপশাসনের বিরুদ্ধেই এক চূড়ান্ত চপেটাঘাত। দিনের পর দিন শিক্ষা দফতরকে যেভাবে দুর্নীতির ‘আঁতুড়ঘর’ বানিয়ে ফেলা হয়েছিল, সেই জঞ্জাল সাফ করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নতুন সরকার। আজ বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, দফতরে কোনো রকম একনায়কতন্ত্র বা অস্বচ্ছতা চলবে না। সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমস্ত স্তরের আধিকারিক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিয়ে একটি দায়বদ্ধ ‘টিম’ হিসেবে কাজ করা হবে। মন্ত্রীর এই কড়া ও সুনির্দিষ্ট বার্তা বুঝিয়ে দিল, বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে টাকার খেলা বন্ধ করে সৎ ও যোগ্য মেধার দিন এবার সত্যিই ফিরে আসতে চলেছে।
