প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে এবং নির্বাচনের শুদ্ধতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করলো ভারতের নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ প্রশাসন এবং নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকদের জন্য এই ‘ছয় দফা লক্ষ্য’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা পেশিশক্তির আস্ফালন বরদাস্ত করা হবে না।
ভোটারদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন যে বিষয়গুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে, তা হলো,
ভোট ঘোষণা থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার নিরিখে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা, মদ বা অন্য কোনো উপহার সামগ্রী বিলি করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুল্ক দপ্তর ও পুলিশের বিশেষ দল এই নজরদারিতে থাকবে। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা হুমকির মুখে না পড়ে নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য এলাকা দখল মুক্ত রাখা ও নিয়মিত টহলদারি নিশ্চিত করতে হবে। বুথ দখল বা জাল ভোট দেওয়া রুখতে এবার প্রতিটি বুথে সিসিটিভি নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) সক্রিয় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেক সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেয় বা নির্দিষ্ট পথে যেতে বাধ্য করে। একেই বলা হয় ‘সোর্স জ্যামিং’। এটি রুখতে সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের এলাকার পুরনো সব নির্বাচনী অপরাধী এবং দাগি অপরাধীদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে তাদের বর্তমান গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে। প্রয়োজনে তাদের আগাম আটক বা এলাকাছাড়া করার নির্দেশও রয়েছে।
কমিশনের এই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজ্য পুলিশ। বিশেষ করে ভাঙড়, বারুইপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ভোটারদের মনে এই বিশ্বাস জাগানো যে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের সুরক্ষায় সদা প্রস্তুত।
এবারের নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায় এবং কীভাবে মোতায়েন করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কমিশনের নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকরাই। স্থানীয় প্রশাসনের এতে কোনো হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১০০-র বেশি পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন এবং তাঁদের ফোন নম্বরও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে যাতে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো পুলিশ আধিকারিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন বা এই ৬টি লক্ষ্য পূরণে গাফিলতি করেন, তবে তাঁকে অবিলম্বে নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে নিচুতলার পুলিশ কর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা তুঙ্গে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন এখন চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচনী রণকৌশলে রাজনৈতিক দলগুলোর লড়াইয়ের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নিজেও আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছে। এখন দেখার, এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়ে সাধারণ ভোটারদের নির্বিঘ্নে বুথমুখী করতে পারে।
