প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যখন চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক বিরাট চমক। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তলবে আজই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের হেভিওয়েট দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঘোরার আগেই এল মন্ত্রীর সেই বহুপ্রতীক্ষিত ‘বড় সিদ্ধান্ত’। আজ কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছেন না তিনি। মন্ত্রীর এই হঠাৎ পিছুটান ঘিরে এখন বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন— তবে কি জেরা এড়াতে নতুন কোনো সমীকরণ সাজাচ্ছেন মন্ত্রী?
গতকালই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সুজিত বসু। তাঁর দাবি, সামনেই নির্বাচন এবং তিনি এখন মনোনয়ন পত্র পেশের কাজে ভীষণ ব্যস্ত। তাই আজ নয়, ১৫ এপ্রিলের পর তিনি ইডি-র মুখোমুখি হতে পারেন। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, ইডি-র সমন তো অনেক আগেই এসেছিল, তবে কি সিজিও কমপ্লেক্সের চৌকাঠ পেরনোর ঠিক আগেই হঠাৎ এই ‘মনোনয়ন-ব্যস্ততা’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল? বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলে হাসাহাসি শুরু হয়েছে এই বলে যে— “ভোটের ডিউটি তো অজুহাত, আসল লক্ষ্য কি তবে সময় কেনা?”
ইডি সূত্রের খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতির জাল যে ভাবে ছড়িয়েছে, তাতে সুজিত বসুকে জেরা করা ছিল তদন্তের অন্যতম মাইলফলক। অভিযোগের পাহাড় আর নথির স্তূপ নিয়ে যখন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা সিজিও কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই মন্ত্রীর এই ‘অনুপস্থিতি’ তদন্তের গতিতে কিছুটা ব্রেক কষল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরতি কি শুধুই মনোনয়নের জন্য, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনো আইনি রক্ষাকবচের নীল নকশা তৈরি হচ্ছে?
রাজ্য বিজেপির অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা তুঙ্গে। গেরুয়া শিবিরের অনেক নেতারই প্রশ্ন— “এতদিন তো বহাল তবিয়তে ঘুরছিলেন, সিজিও-র ডাক আসতেই হঠাৎ কাজের চাপ বেড়ে গেল?” তাঁদের দাবি, দুর্নীতির পাহাড় ধামাচাপা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে, যদি কোনো লুকোনোর কিছু না-ই থাকে, তবে তদন্তের মুখোমুখি হতে এত দ্বিধা কেন?
এখন সবার নজর ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তকারী সংস্থা কি মন্ত্রীর এই ‘মনোনয়ন যুক্তি’ মেনে নিয়ে ততদিন পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? নাকি তদন্তের স্বার্থে আরও কড়া কোনো আইনি পদক্ষেপ বা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ অপেক্ষা করছে?একদিকে সিজিও কমপ্লেক্সের নিস্তব্ধতা, আর অন্যদিকে মন্ত্রীর নির্বাচনী ব্যস্ততা— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসী এখন একটাই প্রশ্ন করছেন, এতদিন পর যখন সুজিত বাবু তদন্তকারীদের মুখোমুখি হবেন, তখন কি বেরিয়ে আসবে নিয়োগ দুর্নীতির আসল ‘রাঘববোয়ালদের’ নাম? উত্তেজনার পারদ এখন আকাশচুম্বী!
