Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ফরাক্কায় নজিরবিহীন ব্রেকথ্রু! এই বিশেষ প্রযুক্তিতে সোজা হলো বেঁকে যাওয়া রেললাইন!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে অতিবৃষ্টির জেরে রেললাইনের নিচের মাটি ধসে যে চরম বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, রেলের ইঞ্জিনিয়ারদের ম্যারাথন পরিশ্রমে অবশেষে তার স্থায়ী কারিগরি সমাধান মিলল। গতকাল লাইনের পাশের মাটি ধসে (Bulging) ওভারহেড ইলেকট্রিক (OHE) খুঁটি হেলে পড়ার কারণে সংস্কারের কাজ প্রচণ্ড জটিল হয়ে উঠেছিল। তবে আজ ভোররাত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়াররা এক বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডাউন লাইনের ৯০ শতাংশ মেরামতির কাজ সফলভাবে শেষ করেছেন। ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই পুরো টেকনিক্যাল অপারেশনের তদারকি করছেন পূর্ব রেল (Eastern Railway)-এর জেনারেল ম্যানেজার (GM) গীতিকা পাণ্ডে এবং মালদা ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা।

লাইনের নিচের মাটি যাতে বারবার ধসে না যায়, তার জন্য রেলের টেকনিক্যাল টিম মূল দুটি বৈজ্ঞানিক সমাধানকে কাজে লাগিয়েছে। ধসের ফলে মাটি ক্রমাগত দু’পাশে ছড়িয়ে পড়ছিল (Bulging)। এটি রুখতে আধুনিক রিগিং মেশিনের সাহায্যে মাটির গভীরে একের পর এক শক্ত লোহার আস্ত রেলের পাত (Rails) লম্বালম্বিভাবে গেঁথে খুঁটি তৈরি করা হয়েছে। এই লোহার পিলারের দেওয়াল চারপাশ থেকে ধসে যাওয়া মাটিকে শক্তভাবে আটকে রাখছে। সাধারণ মাটির বদলে এবার জমিকে জমাট করতে ঝাড়খণ্ড থেকে মালবাহী ট্রেনে করে আনা বিপুল পরিমাণ ‘স্টোন ডাস্ট’ (পাথরের মিহি গুঁড়ো) এবং ভারী বোল্ডার ব্যবহার করে ৬ ফুটের ফাঁকা গর্তটি ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে ট্র‍্যাক লিফটিং (লাইন উঁচুতে তোলা) সহজ হয়েছে এবং মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কমে নতুন করে ধসের ঝুঁকি ১০০% দূর হয়েছে।

রেল লাইনের এই মেরামতির জন্য গতকাল দার্জিলিং মেল, পদাতিক, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস এবং বন্দে ভারতের মতো একাধিক ট্রেন বাতিল করতে হয়েছিল। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পরিবহন দফতর শিলিগুড়ি ও কলকাতা রুটে অতিরিক্ত বিশেষ সরকারি বাসের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া মালদা ও মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আটকে থাকা ট্রেন যাত্রীদের খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনে থাকার বন্দোবস্ত করতে। রেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯০ শতাংশ কাজ হয়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত সেফটি ট্রায়াল ও রেলওয়ে সেফটি সার্টিফিকেশন পাওয়ার পরেই আজ রাতের মধ্যে এই রুটে পুনরায় সম্পূর্ণ গতিতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে চলেছে।

Exit mobile version