প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরকে লোক দেখানো সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু তলায় তলায় তাদের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ রয়েছে। আর তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটকে পুরোপুরি হুমায়ুন কবীরের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্যই আলাদাভাবে তার সঙ্গে সেটিং করে এই খেলা খেলছে। প্রথম দিন থেকেই এই অভিযোগ করছে বিজেপি। তাদের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে থেকে হুমায়ুন কবীর যদি এই বাবরি মসজিদ গঠন করার উদ্যোগ নিতেন, তাহলে তৃণমূলের থেকে আরও হিন্দু ভোট সরে যেত। তাই একদিকে নিজেদের হিন্দুদরদী প্রমাণের চেষ্টা, আর অন্যদিকে মুসলিম ভোট হুমায়ুন কবীরের দিকে দিয়ে ভোটের পরে তার সঙ্গে আবার জোট করে নেওয়ার ফর্মুলা তৈরি করে ফেলেছে এই রাজ্যের শাসক দল। বিজেপি যখন এই সমস্ত দাবি করছে, ঠিক তখনই গতকাল সেই হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদের নির্মাণ কার্য শুরু করে দিলেন। আর সেই দিনই আরও একবার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূলের সখ্যতা নিয়ে বোমা ফাটালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
হুমায়ুন কবীর যেদিন প্রথম বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করলেন, সেদিনই প্রশাসনের মনোভাব দেখে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে প্রশাসন বিরোধীদের বিন্দুমাত্র কর্মসূচি করতে অনুমতি দেয় না, যে প্রশাসন অভয়ার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা মানুষদের ওপর কেস দিতে দুইবার ভাবে না, সেই প্রশাসন এত বড় অনুমতি কি করে দিলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। যার ফলে তাদের মনে একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তৃণমূলের যথেষ্ট সখ্যতা রয়েছে। কিন্তু ভোটের রাজনীতির স্বার্থে তারা এখন আলাদা হয়ে একটা নাটক করছে। আবার ভোটের পর ক্ষমতা দখল করতে তারা একত্রিত হয়ে যাবে। আর এই পরিস্থিতিতে গতকাল হুমায়ুন কবীর সেই বাবরি মসজিদের নির্মাণকার্যের সূচনা করতেই হুমায়ুন মানেই তৃণমূল এবং তৃণমূল মানেই হুমায়ুন বলে বুঝিয়ে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “হুমায়ুনই তৃণমূল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসই হুমায়ুন। এটা তৃণমূলের প্ল্যান বি। হুমায়ুন কবীর তৃণমূলের থেকে আলাদা কিছু নয়। এই রাজ্যে মিনি পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে ভারতবর্ষের মানুষ এটা মেনে নেবে না। সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ এবং পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর জনসমাজ, পশ্চিমবঙ্গ যে পশ্চিম বাংলাদেশ হতে চলেছে, তার বিরুদ্ধে এই নির্বাচনের সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে উপড়ে ফেলে দেবে।”
