প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিজেপিকে ‘স্যাটা ভাঙা মার’ এবং প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার মাশুল কি এবার তবে শ্রীঘরে গিয়েই গুনতে হবে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে? রেজিনগরের কাশিপুরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হতেই এবার আইনি সাঁড়াশি চাপে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান। তাঁর সেই ‘চরম’ হুঁশিয়ারির চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের একাধিক থানায় দায়ের হলো একের পর এক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা। রাজনৈতিক মহলের এখন একটাই প্রশ্ন—এবার কি তবে বড়সড় পুলিশি পদক্ষেপের মুখে পড়তে চলেছেন এই বিতর্কিত বিধায়ক?
শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির যুব মোর্চা এবং সামাজিক সংগঠন ‘রাম সীতা সেবা মন্দির’-এর যৌথ উদ্যোগে বহরমপুর থানায় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। শুধু মুর্শিদাবাদই নয়, এই ঘটনার রেশ পৌঁছেছে মালদাতেও। সেখানে বিজেপি কর্মী কাজল গোস্বামী ইংরেজবাজার থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের লিখিত নালিশ জানিয়েছেন।
এর আগের খবরে আমরা দেখিয়েছিলাম কীভাবে রেজিনগরের সভা থেকে বিজেপি নেতৃত্বকে খোলাখুলি মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। তিনি বলেছিলেন, “আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করব, যে আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।” শুধু তাই নয়, নিজের মেজাজ হারানোর কথা স্বীকার করে তিনি পুলিশ সুপার (SP) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী কাউকেই তোয়াক্কা না করার দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন। এই ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির।
থানায় অভিযোগ জমা পড়ার পর নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একসময় এমন অনেক কথাই বলতেন। তবে এখন বাংলায় পরিস্থিতি বদলেছে।” বিজেপির যুব মোর্চার দাবি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগে হুমায়ুন কবীরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তৃণমূলের কুণাল ঘোষ বিধায়ককে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রতিবাদের অনেক রাস্তা থাকে, কিন্তু এমন কোনো আইনবহির্ভূত মন্তব্য করা উচিত নয় যা পরে বড় সমস্যা তৈরি করে।
নিজের রাজনৈতিক জীবনে বারেবারে দলবদল ও বেলাগাম মন্তব্যের জন্য পরিচিত হুমায়ুন কবীর এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও মাথা নোয়াতে রাজি নন। তবে জোড়া এফআইআর দায়ের হওয়ার পর মুর্শিদাবাদের পুলিশ প্রশাসন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠায় নাকি সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
