Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“নবান্নে শুভেন্দু আমাকে ৩০ হাজার ভোটের ডিল দিয়েছিলেন!” হারের ভয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন হুমায়ুন!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিজের ছেলেকে জেতাতে পর্দার আড়ালে গিয়ে তথাকথিত ‘ডিল’ করতে চেয়েছিলেন, আর এখন সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের মনগড়া অভিযোগ তুলছেন? রেজিনগর উপনির্বাচন মিটতেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের নতুন এক বয়ান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নাকি তাঁকে নবান্নে ডেকে রেজিনগরে ৩০ হাজার ভোটে তাঁর ছেলেকে জেতানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। উপনির্বাচনের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিস্ফোরক দাবি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—রেজিনগরে নিশ্চিত পরাজয় বুঝেই কি এখন মুখ্যমন্ত্রীর ঘাড়ে দোষ চাপানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন নওদার বিধায়ক?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কীভাবে পর্দার আড়ালে ভোটের ফায়দা তুলতে নবান্নে গোপন আঁতাত করতে যান, সেই নৈতিকতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি, গতকাল রেজিনগরে কড়া পুলিশি নজরদারিতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় কোনো পক্ষই বুথ দখল বা কারচুপি করতে পারেনি। আর সেই কারণেই ভোট লুটের কোনো সুযোগ না পেয়ে, হারের সব দায় এখন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা করার অপচেষ্টা করছেন হুমায়ুন।

আইনজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মুখ্যমন্ত্রী চাইলেই কাউকে ৩০ হাজার ভোটে জিতিয়ে দেবেন—এমন দাবি করাটাই হাস্যকর এবং অবাস্তব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অতীতে একাধিক দলবদল করা হুমায়ুন কবীর আসলে বর্তমান প্রশাসনের কড়া ও স্বচ্ছ নীতির সামনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। গতকাল ভোটের দিন নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে বুথে বুথে দাদাগিরি করতে গিয়ে যখন তিনি পুলিশের হাতে আটক হন, তখনই তাঁর সাজানো ছক ভেস্তে যায়। আর সেই রাজনৈতিক দেউলিয়া দশা ঢাকতেই এখন নবান্নের কাল্পনিক ডিল এবং বিশ্বাসভঙ্গের গল্প ফেঁদে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নামলেন এই বিতর্কিত নেতা।

Exit mobile version