Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হুমায়ুনকে গ্রেফতার আসলে ‘বীর’ সাজানোর নাটক! রেজিনগরের মেগা টুইস্ট ফাঁস করলেন অধীর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের মাঝেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীরের নাটকীয় গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। তবে এই গ্রেফতারিকে একেবারেই সরলভাবে দেখছেন না কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। মঙ্গলবার বহরমপুরে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনাকে ‘বিজেপি ও পুলিশের এক সাজানো চিত্রনাট্য’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। অধীর চৌধুরীর দাবি, হুমায়ুন কবীরকে গ্রেফতার করা আসলে সাধারণ মানুষের চোখে তাঁকে একজন ‘প্রতিবাদী ও বীর’ হিসেবে জাহির করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল মাত্র।

সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় এই গ্রেফতারির পেছনের রাজনৈতিক অঙ্কটি ফাঁস করেন। তিনি বলেন, “হুমায়ুন কবীরকে এখনও তাঁরা (বিজেপি) একটাই কারণে টিকিয়ে রেখেছে, সেটা হচ্ছে রেজিনগরে ভোটে তাঁদের সুবিধা করার জন্য। এই হুমায়ুনকে তাঁরা আগামীতেও টিকিয়ে রাখবে। তাই হুমায়ুনকে নাটক করে গ্রেফতার করা হল। হুমায়ুনকে মানুষের সামনে প্রতিবাদী, বীর দেখাতে হবে।”
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, এই গোটাটাই একটি পরিকল্পিত গেমপ্ল্যান, যার মাধ্যমে ভোটারদের নজর আসল সমস্যা থেকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

হুমায়ুন কবীরকে কেন এভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি মুসলমান মানুষের বাস। আর এই মুসলমান ভোটকে বিভিন্ন লাইনে বিভাজন করেই বিজেপি এই জেলায় ৮ টি বিধানসভা আসন নিশ্চিত করতে পেরেছে। হুমায়ুনের পুরনো কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অধীর প্রশ্ন তোলেন, “ভাবতে পারেন, হুমায়ুনকে তাঁরা কেন ব্যবহার করেছিল? কেন বাবরি মসজিদের কথা তুলেছিল? কেন হুমায়ুন বাবরি মসজিদ তৈরি করার জন্য টাকা তুলছে, মানুষের আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে, আর বিজেপি পার্টি চুপ করে বসেছিল?” তাঁর দাবি, বিজেপি যখন দেশজুড়ে রাম মন্দির, ৩৭০ ধারা বাতিল কিংবা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)-এর মতো এজেন্ডা নিয়ে উগ্র প্রচার চালাচ্ছিল, তখন মুর্শিদাবাদে হুমায়ুনের এই আবেগের তাস খেলাতে আদতে বিজেপিরই মেরুকরণের সুবিধা হয়েছে। আর সেই চেনা পথেই রেজিনগরের উপনির্বাচনে ফায়দা লুটতে এই গ্রেফতারির নাটক মঞ্চস্থ করা হলো।

অধীর চৌধুরী প্রশাসনের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে জানান, সাধারণ মানুষ এখন অনেক সচেতন। ভোটের দিন এই ধরণের রাজনৈতিক নাটক করে যে জনমতকে প্রভাবিত করা যাবে না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। প্রতিপক্ষ দলগুলির এই গোপন আঁতাত এবং পুলিশের সহযোগিতায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছেলেখেলা করার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কংগ্রেস রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

Exit mobile version