প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামী ৯ অক্টোবর রেজিনগর উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ। কিন্তু ব্যালট বাক্স খোলার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগেই পরাজয় স্বীকার করে কার্যত রণে ভঙ্গ দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। গতকাল ভোটের দিন নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে বুথে বুথে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি। আর আজ সেই ক্ষোভে দাবি করলেন, “গতকাল পুলিশ দিয়ে ভোট লুট করানো হয়েছে, রেজিনগরে বিজেপি-ই জিতবে।” ভোট গণনার আগেই তাঁর এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল প্রকাশের আগেই এভাবে হার মেনে নেওয়া আসলে মুর্শিদাবাদে হুমায়ুনের পায়ের তলা থেকে মাটি ধসে যাওয়ারই আগাম প্রমাণ।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, রেজিনগরে নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়ে যে তিনি মস্ত বড় ভুল করেছেন এবং এলাকার মানুষ যে তাঁর পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা ভোট মিটতেই খুব ভালো করে বুঝে গিয়েছেন নওদার বিধায়ক। আর সেই কারণেই পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচতে গণনার আগেই প্রতিপক্ষ বিজেপির জয় নিশ্চিত করে দিলেন তিনি, যাতে পরে বলতে পারেন—তিনি হারেননি, তাঁকে প্রশাসন হারিয়েছে!
মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনৈতিক বৃত্তের দাবি, অতীতে একাধিক দল ঘুরে বেড়ানো এই সুযোগসন্ধানী নেতার কোনো ছকই এবার রেজিনগরে খাটেনি। বিগত নির্বাচনগুলিতে যেভাবে পেশ পেশিশক্তি বা বুথ দখলের রাজনীতির অভিযোগ উঠত, বর্তমান নতুন প্রশাসনের কড়া মনোভাব ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারির কারণে এবার তা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আর সেই কারণেই কোনো কারচুপি করতে না পেরে হারের সব দায় এখন পুলিশের ওপর চাপিয়ে সস্তা ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে নামলেন হুমায়ুন।
বিশ্লেষকদের স্পষ্ট বক্তব্য, যিনি নিজেই ভোটের দিন নিয়ম ভেঙে পুলিশের গাড়ি চড়েছেন, তাঁর মুখে এখন ‘অবাধ ভোটের’ নীতি কথা মানায় না। মুর্শিদাবাদের ভোটাররা এখন অনেক সচেতন এবং হুমায়ুন কবীরের এই পরাজয় স্বীকার আসলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসানেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
