প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটে জিতলে যিনি নিজেকে মুর্শিদাবাদের ‘শের-ই-বাংলা’ বলে দাবি করেন, ভোটের গ্রাফ নামতেই তিনি কেন বলির পাঁঠা সেজে কান্নাকাটি জুড়ে দিচ্ছেন? রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন মিটতেই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের এই ভোলবদল নিয়ে এখন তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। গতকাল ভোটের দিন নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর, আজ আচমকাই ক্যামেরার সামনে চোখের জল ফেলে রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। আর এই ঘোষণা পরেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক বৃত্তে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এটা কি সত্যিই আক্ষেপ, নাকি হারের আগাম আভাস পেয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রেজিনগরে নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়ে যে চরম রাজনৈতিক ধাক্কা আসতে চলেছে, তা হয়তো ভোট গণনার আগেই আঁচ করতে পেরেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। আর সেই কারণেই ৯ তারিখের ফলাফলের আগেই এই অবসরের তাস খেলে মানুষের আবেগ ও সহানুভূতি পাওয়ার একটা শেষ চেষ্টা তিনি করছেন বলে দাবি করছেন বিরোধীরা।
আজ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে হুমায়ুন কবীর আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না। তবে মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁর এই ‘ত্যাগের’ তত্ত্ব মানতে নারাজ। সমালোচকদের বক্তব্য, ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে অতীতে কংগ্রেস, তৃণমূল, বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টি ঘুরে নিজের দল খোলা হুমায়ুন কবীর আসলে বরাবরই ‘চাপের রাজনীতি’ বা ‘ব্ল্যাকমেইলিং’-এর সমীকরণ পছন্দ করেন। কিন্তু রাজ্যের বর্তমান নতুন প্রশাসনের কড়া ও আপসহীন মনোভাবের সামনে তাঁর সেই চেনা ছক এবার আর খাটেনি। আর সেই কারণেই রাজনৈতিক জমি হারানোর ভয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে এই নাটকীয় আবেগের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে বারবার দলবদল করা এবং শেষমেশ ভোটের পরদিনই এই কান্নাকাটি আসলে হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দেউলিযাপনা এবং মুর্শিদাবাদে তাঁর পায়ের তলার মাটি সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ারই আগাম ইঙ্গিত।
