প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় নাটক চলছে দিল্লির অলিন্দে। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে সাথে নিয়ে প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়ে এনডিএ (NDA)-র শরিক হিসেবে নিজেদের ঘোষণা করেছেন। খাতায়-কলমে কেন্দ্রের মোদী সরকারের পাশে দাঁড়ানোর এই খেলাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহল যেমন সরগরম, তেমনই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে খোদ ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) একনিষ্ঠ কর্মী ও নেতাদের একাংশ। এই রাজনৈতিক ডিগবাজি এবং ক্ষমতার সমীকরণকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতার এই রাজনৈতিক অবস্থান বদলকে নগ্ন করে দিয়ে হুমায়ুন কবীর যে তির্যক মন্তব্য করেছেন, তা এখন রাজনৈতিক মহলের মূল চর্চার বিষয়।
তৃণমূলের এই দলত্যাগী শিবিরের প্রধান মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করে হুমায়ুন কবীর প্রশ্ন তুলেছেন নৈতিকতা নিয়ে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত ঝাঁঝালো ভাষায় বলেন:”এই ৮০ বছর বয়সে কীসের লোভে, লালসায় একটা অন্য দলে লিডারশিপ নিলেন?” হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে এই সাংসদদের জিতিয়েছিলেন এনডিএ জোটের বিরোধিতা করার জন্য। কিন্তু ভোটের পরেই খোলস বদলে, আদর্শকে একপাশে সরিয়ে রেখে রাতারাতি এনডিএ-র পাশে গিয়ে দাঁড়ানো আর কিছুই নয়, সাধারণ মানুষের রায়ের সাথে চরম বেইমানি। জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ ব্যক্তিরা পদের আকঙ্ক্ষা ছাড়তে পারছেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন জোর গুঞ্জন, কোনো আদর্শের টানে নয়, বরং দিল্লির তখতে নতুন কোনো ক্যাবিনেট মন্ত্রিত্ব বা বড়সড় পদের আশাতেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই মাস্টারপ্ল্যান সাজিয়েছেন। এনসিপিআই-এর আড়ালে থেকে এনডিএ-র সমর্থন আদায়ের এই খেলাকে বিরোধীরা এবং সমালোচকদের একটা বড় অংশ সস্তা স্তরের সুবিধাবাদ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আর এই সুবিধাবাদী চরিত্রের মুখোশই প্রকাশ্য জনসমক্ষে টেনে খুলে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে ২০ জন সাংসদ এনডিএ জোটে আসায় বিজেপির শক্তি বাড়ছে। কিন্তু ভেতরের ছবিটা একেবারেই আলাদা। বিজেপির অন্দরে, বিশেষ করে আদি বিজেপি নেতা ও কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে বলে সূত্রের খবর। যে নেতাদের দুর্নীতি, রোজভ্যালি কান্ড এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা বছরের পর বছর মাঠে-ঘাটে লড়াই করেছেন, মার খেয়েছেন, আজ সেই মুখ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোন মুখে স্বাগত জানানো হবে—এই প্রশ্ন তুলছেন নিচু তলার কর্মীরা। লোকসভার স্পিকারের ঘরে গিয়ে আলাদা বসার আবেদন জানানো এই দলত্যাগীদের এখনই মোদী সরকারে মন্ত্রী করার যে জল্পনা চলছে, তাতে চরম ক্ষুব্ধ বিজেপির একনিষ্ঠ সাংসদ ও কার্যকর্তারা। ত্যাগ ও লড়াইয়ের কোনো মূল্য না দিয়ে এই ‘পরিযায়ী’ নেতাদের কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আরএসএস (RSS) এবং বিজেপির আদি শিবিরের একাংশে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য আজ প্রত্যেকটি সচেতন ভোটারের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীরা যেভাবে দলবদল করে এনডিএ-র দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তা রাজনীতিতে এক সুবিধাবাদী অধ্যায় তৈরি করল। বিজেপির নীতি আদর্শকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নেতাদের দলে টানার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পণ্ডিতরা। কারণ, সমালোচকদের প্রশ্ন—যাঁরা আজ ক্ষমতার সমীকরণে নিজের দল ত্যাগ করতে পারেন, আগামী দিনে তাঁরা যে অন্য কোনো স্বার্থে এনডিএ-র সাথেও দূরত্ব তৈরি করবেন না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?
(বিঃদ্রঃ: প্রতিবেদনে উল্লিখিত মূল বক্তব্য আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত মতামত এবং দিল্লির অলিন্দে প্রচলিত রাজনৈতিক গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর সাথে পোর্টাল কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় সম্পাদকীয় সংশ্লিষ্টতা নেই।)
