Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জনগণের টাকায় বেতন নেবেন, অথচ বিধানসভা বয়কট করবেন! হুমায়ুন কবীরের ‘তড়পানি’ দেখে তাজ্জব রাজনৈতিক মহল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধায়ক পদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বহাল থাকবে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় মোটা মাইনে ও ভাতাও ঠিকঠাক পকেটে পুরবেন, অথচ নিজের ক্ষোভ মেটাতে বিধানসভার কাজ বয়কট করবেন! রেজিনগর উপনির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন ‘হুমকি’ ঘিরে এবার তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আম জনতার মধ্যে। আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাউজে থাকলে তিনি বিধানসভায় যাবেন না এবং কোনো সরকারি কমিটির মিটিংয়ে অংশ নেবেন না। উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই এই ধরণের বয়কট রাজনীতির তড়পানি দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির এই ধরণের আচরণ অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পরিপন্থী। প্রশ্ন উঠছে, যে মানুষরা তাঁকে ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন নিজের এলাকার সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরার জন্য, তাঁদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অহংকার চরিতার্থ করতে কি আদৌ পারেন একজন বিধায়ক?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান আসলে এক ধরণের রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং বা চাপ সৃষ্টির অপকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। রেজিনগর উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়ে যে ভরাডুবি হতে চলেছে, তা স্পষ্ট বুঝেই এখন সংবাদ শিরোনামে থাকার জন্য এই নতুন নাটক শুরু করেছেন তিনি। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট বক্তব্য—এমএলএ হোস্টেলের সুবিধা, গাড়ি-ঘোড়া এবং সরকারি ভাতা নেওয়ার ক্ষেত্রে হুমায়ুন কবীরের কোনও আপত্তি নেই, অথচ কাজ করার বেলায় তিনি শর্ত চাপাচ্ছেন! মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনৈতিক বৃত্তেও এই নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সাধারণ ভোটারদের একাংশ বলছেন, অতীতে ক্ষমতার লোভে বারবার দলবদল করা হুমায়ুন কবীর যখনই দেখেন তাঁর ব্যক্তিগত ছক বা দাদাগিরি খাটছে না, তখনই তিনি এই ধরণের অসাংবিধানিক ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থে বিধানসভা ও সরকারি কমিটিকে বয়কটের এই চরম হুঁশিয়ারি আসলে তাঁর রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও জেদের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version