প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ সকলের নজর ছিল শীর্ষ আদালতের দিকে। কারণ সেখানে আইপ্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিলো। সকলেই চাইছিলেন যে, আজ একটা বড় কিছু হতে পারে। তাই সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। কিন্তু হঠাৎ করেই খবর পাওয়া যায় যে, সেই শুনানি আজ হচ্ছে না। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সেই শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। তবে এর কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে যে, রাজ্যের পক্ষ থেকে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে, সেই হলফনামার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা নিজেদের বক্তব্য জানাতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই কারণেই তাদেরকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে যে সবথেকে বড় দায়িত্ব এবং দায়ভার রাজ্যের, সেই তথ্য তুলে ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফেঁসে গিয়েছেন জন্যই তিনি এই কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, এই আইপ্যাক মামলার প্রথম যেদিন শুনানি সুপ্রিম কোর্টে হয়েছিল, সেদিন একাধিক বিষয় উঠে এসেছিল। আর সেদিন শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে সব পক্ষকে নোটিশ করা হয়। এমনকি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য আগে ভাগেই হলফনামা জমা দিলেই আজ এই মামলার শুনানি হতো। কিন্তু তারা যতদূর খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, গতকাল সন্ধ্যের একদম পরে এই হলফনামা জমা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য যখন হলফনামা জমা দিয়েছে, তখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তাদের বক্তব্য পাল্টা জানাতে হবে। কিন্তু রাজ্য একদম শেষ মুহূর্তে ইচ্ছাকৃতভাবেই হলফনামা জমা দিয়ে যাতে এই শুনানি পিছিয়ে যায়, তার কৌশল অবলম্বন করেছিল। আর সেই কারণেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এত দ্রুত জবাব দেওয়া যে সম্ভব নয়, সেই জন্য তারা নতুন করে কিছুটা সময় চেয়েছে শীর্ষ আদালতের কাছে। আর তাদের সেই আবেদনে মান্যতা দিয়ে শীর্ষ আদালত এই মামলার শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে। তবে এর জন্য সবথেকে বেশি ত্রুটি যে রাজ্যের রয়েছে, তারা যে শেষ মুহূর্তে একদম হলফনামা জমা দিয়েছে, খবর ইচ্ছাকৃতভাবেই যে তারা এই কাজ করেছে যাতে এই মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়, এবার সেই বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই সুপ্রিম কোর্টেই আইপ্যাক মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, “শীর্ষ আদালতের আগের দিন শুনানিতে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন, তাকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরা সুকৌশলে এই হলফনামা গতকাল সন্ধ্যের পরে কার্যত রাত্রিবেলা দেয়। আর এই হলফনামাটা পড়ার পরে ভারত সরকার এবং ইডির পক্ষ থেকে পাল্টা উত্তর দেওয়া আইনগত প্রথার মধ্যে পড়ে। না হলে শুনানি শুরুও হতে পারবে না, শেষও হতে পারবে না। আসলে মুখ্যমন্ত্রী পুরোপুরি ফেঁসে গিয়েছেন। তার সঙ্গে থাকা নন্দিনী চক্রবর্তী, মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমাররা ফেঁসে গিয়েছেন। তাই অনেক আগে থেকে বলা সত্ত্বেও গতকাল একদম রাতে এই হলফনামাটা দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই ভারত সরকারের পক্ষে বা ইডির পক্ষে যারা ছিলেন, তারা এর উত্তর দেওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই আদালত এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।”
