প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে বেরোতেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তাঁকে গ্রেফতার করে। ইন্দ্রনীল সেনের এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির পরই রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন থেকে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, এই দুর্নীতির শিকড় আরও অনেক গভীরে। তিনি বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং কলকাতা পুলিশ নিশ্চিতভাবেই পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পেয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে একা ইন্দ্রনীল সেন খেয়েছে বললে ভুল হবে, সে খাইয়ে খেয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এতে প্রত্যক্ষ মদত থাকতে পারে, তাঁর কাছেও এই টাকা পৌঁছে থাকতে পারে।” পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিধানসভায় আমি আগেই বলেছিলাম, খেলা সবে শুরু হয়েছে। ব্রেকফাস্ট এখনও শেষ হয়নি, কেবল চা-বিস্কুট পর্ব চলছে। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক চোরদের জেলে যেতে হবে এবং খুব শীঘ্রই আরও বড় জায়গায় হাত পড়বে।”
তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেন, “আমরা বাইরে থেকে সবসময় জানতাম যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অপরের পরিপূরক। দু’জনে সব জায়গায় একসঙ্গে গান গাইতেন, একই গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা বা অন্য কোনো সিনিয়র মন্ত্রী যে গাড়িতে ওঠার সুযোগ পেতেন না, সেখানে ইন্দ্রনীল সেন অনায়াসে চান্স পেতেন। এটা আসলে আন্টি আর বেবির জয়েন্ট ভেঞ্চার।” প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারির পর কটাক্ষের সুরে নজরুলগীতির লাইন টেনে মুখ্যমন্ত্রী গেয়ে ওঠেন, “শেষ গানটাও আমরা শুনেছি, দু’জন একসঙ্গেই ডুয়েট করেছিলেন—’আমার যাওয়ার সময় হল, দাও বিদায়’। এই বিদায়ঘণ্টা তো ওঁরা নিজেরাই বাজিয়ে গিয়েছেন।”
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, তখন পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দিকে তোপ দেগে বলেন, “যাঁরা বিজেপির কাছে নিজেদের মেরুদণ্ড বিক্রি না করে মাথা উঁচু করে লড়াই করছেন, তাঁদেরই ইডি-সিবিআই দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে। আর যত চোর-চিটিংবাজ আছে, তারা বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সাত খুন মাফ হয়ে যাচ্ছে।” উল্লেখ্য, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘মাসআর্ট সোসাইটি’ নামক একটি সংস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর ভুয়া বাণিজ্যিক সিলমোহর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের থেকে পাস ও প্রিভিউ শোর নামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার প্রাথমিক হিসাব পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থারা। এই মামলার জল আগামী দিনে কোন প্রভাবশালী পর্যন্ত গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
