প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO)-র নাম ও লোগো ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। গতকাল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দফতর থেকে বেরোনোমাত্রই তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে কলকাতা পুলিশের লালবাজার গোয়েন্দা শাখার হাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। আজ, বৃহস্পতিবার দুপুরেই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়েছে। বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া মূল মামলার ভিত্তিতেই পুলিশের এই বড় পদক্ষেপ। আদালত সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন এই মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জোরদার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক ট্রাভেল কনসালট্যান্ট জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘মাস আর্ট’ (MassArt)-এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (Intangible Cultural Heritage) স্বীকৃতি পাওয়ার পরই এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর অফিসিয়াল পার্টনার ও স্পনসরড সংস্থা বলে দাবি করে কলকাতার ২৪টি নামী পুজোর বিশেষ ‘প্রিভিউ পাস’ ও ভিআইপি টিকিট চড়া দামে বিক্রি করা হয়। টিকিটগুলির মূল্য ছিল প্রতি পিস ৪,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত। প্রাথমিক তদন্তে ইডি এবং পুলিশের অনুমান, ভুয়ো অংশীদারিত্বের ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার প্রতারণা ও অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বহু কোটি টাকার জালিয়াতি মামলার তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দারা ইন্দ্রনীল সেনকে একাধিকবার তলব করলেও তিনি হাজিরা এড়াচ্ছিলেন। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানান। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানায় যে, এই ঘটনায় স্পষ্ট দুর্নীতির যোগসূত্র ও সরকারি পদের অপব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টেও শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় তাঁর আইনি রক্ষাকবচ সম্পূর্ণ উঠে যায় এবং তার পরেই সল্টলেকে ইডির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পা বাড়াতেই ওত পেতে থাকা কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে গ্রেফতার করে।
