Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

যোগ্য নেতার আকাল? একদা দূরত্ব তৈরি হওয়া ‘কানন’ চরণেই কি আবার ফিরছে ভরসা?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খাস কলকাতা পুরসভার মেয়রের কুর্সি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র গুঞ্জন! সদ্য প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম আকস্মিক পদত্যাগ করায় এই মুহূর্তে শীর্ষ নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়েছে কলকাতা পুরসভা। রাজনৈতিক মহলের সূত্র অনুযায়ী, এই শূন্যতা কাটাতে এবং পরবর্তী রণকৌশল স্থির করতে আজ রবিবার দুপুর ৩ টেয় ইএম বাইপাসের দলীয় কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে সমস্ত কাউন্সিলরকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় যে চর্চাটি এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো— পুরসভার এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাশ টানতে পুনরায় প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ওরফে ‘কানন’-কে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর এই জল্পনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একসময় যাঁর সাথে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একপ্রকার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল এবং যাঁকে দলের মূল স্রোত থেকে দূরে সরে যেতে হয়েছিল— আজ এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কি আবার তাঁর অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, একেই বলে রাজনীতির বৃত্তাকার খেলা। পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, কলকাতা পুরসভার অন্দরে কি এমন কোনো নতুন মুখ উঠে এল না, যিনি এই মুহূর্তে গোটা পুরবোর্ডকে একক দক্ষতায় নেতৃত্ব দিতে পারেন? নাকি দলের অভ্যন্তরে কোনো বিশেষ সমীকরণের কারণেই পুরনো এবং অভিজ্ঞ মুখের দিকেই ঝুঁকতে হচ্ছে নেতৃত্বকে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কলকাতা পুরসভার রাশ নিজেদের অনুকূলে রাখা দলের অস্তিত্ব ও ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর সেই কারণেই কলকাতার অলিগলি এবং পুর-প্রশাসন হাতের তালুর মতো চেনা পুরনো মুখের পক্ষে সওয়াল করছেন দলেরই অনেকে।

দলীয় সূত্রের খবর, কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে এর পেছনে ভেতরের কোনো সাংগঠনিক রদবদল বা চাপা রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা থামছে না। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফেরানোর জল্পনা তীব্র হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজকের বৈঠকের পরেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন দলেরই একাংশ। আজকের বৈঠকে সমস্ত কাউন্সিলরকে হাজির থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে দল এই মুহূর্তে কোনো প্রকার অভ্যন্তরীণ ঢিলেঢালা মনোভাব বরদাস্ত করতে রাজি নয়।

বন্ধ ঘরের বৈঠকে আজ পরবর্তী মেয়রের নাম হিসেবে কার নাম সিলমোহর পায়, সেটাই এখন দেখার। তবে কলকাতার সচেতন নাগরিকরা কিন্তু চান রাজনৈতিক ডামাডোল সরিয়ে রেখে পুরসভার দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা যেন দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে। মেয়র পদে মুখ বদল হলেই কি কলকাতার দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে, নাকি চেনা ছকেই চলবে পুর-প্রশাসন— তার উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে।

Exit mobile version