প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার ইসকন (ISKCON) কর্তৃপক্ষের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সংগঠনের সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা সংগঠনের সহ-সভাপতি ও মুখ্য মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকাল থেকেই এই খবরটি সামনে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভক্ত ও অনুগামীদের মধ্যে। তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘বাধ্যতামূলক ছুটিতে’ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসকন কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাধারমণ দাস এখন থেকে সংবাদমাধ্যম, সরকারি আধিকারিক বা কোনো জনসমক্ষে ইসকনের পক্ষে কোনো বিবৃতি দিতে পারবেন না। সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করার ওপরেও তাঁর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাধারমণ দাস নিজে সমাজমাধ্যমে ইসকন কর্তৃপক্ষের এই চিঠিটি শেয়ার করে জানিয়েছেন যে তিনি একজন অনুগত সৈনিক হিসেবে কর্তৃপক্ষের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলবেন।
রাধারমণ দাস নিজেই সমাজমাধ্যমে তাঁর অপসারণের পেছনে কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৬টি মূল কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কারণগুলি হলো, বাংলাদেশে হিন্দু ও ইসকন ভক্তদের ওপর চলা নির্যাতন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা এবং চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে সরব হওয়া। ২০২৩ সালে বিজেপি সাংসদ মানেকা গান্ধী ইসকনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর, রাধারমণ দাস তাঁর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। ইসকন ভক্তদের উদ্দেশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য করায় কৌতুকশিল্পী সুরলীন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ দায়ের করা। প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মের পক্ষে এবং এর বিরোধী লবির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত জোরালো সওয়াল করা। ১৯৭৬ সালের নিউ ইয়র্ক রথযাত্রার সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক যোগসূত্র নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা। গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া একটি সংবাদমাধ্যমের লাইভ সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া।
ইসকন কলকাতার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নিয়ম-নীতি, শৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক মানদণ্ড বজায় রাখতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে রাধারমণ দাসের এই অপসারণকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
