প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হতেই চরম নাটকীয় মোড় রাজ্য রাজনীতিতে। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাঁড়াশি অভিযান চলছে, ঠিক তখনই পাল্টা রণংদেহি মেজাজে ময়দানে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের নির্বাচনী প্রস্তাবক ও দলীয় প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ মহলে আয়কর হানা হতেই কার্যত অগ্নিশর্মা মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি-কে সরাসরি ‘নির্লজ্জ’, ‘বেহায়া’ এবং ‘কাপুরুষ’ বলে আক্রমণ করে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার এলগিন রোড ও রাসবিহারী এলাকায় আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্রের অন্যতম নির্বাচনী প্রস্তাবক মিরাজ শাহ এবং রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশিস কুমার। ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর এই ‘অ্যাটাক’ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তৃণমূল নেত্রী।
এই তল্লাশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সরাসরি বিজেপি-কে লক্ষ্য করে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে এজেন্সি দিয়ে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছেন, আর তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির অফিসে রেইড করছেন..নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল, সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না, ভীতু, কাপুরুষ।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যারা প্রকৃত অর্থে কালো টাকা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বেছে বেছে তৃণমূলের প্রার্থী ও প্রস্তাবকদের টার্গেট করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ আয়কর হানা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। ভোটের ঠিক আগে প্রস্তাবকের বাড়িতে হানা দিয়ে শাসক শিবিরের মনোবলে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আক্রমণকে ‘বাংলার ওপর আক্রমণ’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের মধ্যে সহানুভূতি তৈরির চেষ্টা করছেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সময়জ্ঞান (Timing) নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি গেরুয়া শিবিরের দিকেই বল ঠেলে দিয়েছেন।
ভোটের ময়দানে লড়াই শুরু হওয়ার আগেই রাজপথ থেকে রাজভবন— সর্বত্রই এই আয়কর হানা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘বিস্ফোরক’ প্রতিক্রিয়া আগামী কয়েকদিন রাজ্যের ভোটচিত্রকে আরও উত্তপ্ত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল এই নিয়ে অভিযোগ জানায় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, কোনো চাপের কাছেই তিনি নতিস্বীকার করতে রাজি নন।
