প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এবারের বাজেটে ওই সামান্য ভাতা, ভর্তুকি বাড়ানো ছাড়া যে আর ভোট পাওয়ার কোনো উপায় নেই, তা তিনিও খুব ভালো মতই উপলব্ধি করেছেন। আর সেই কারণেই রাজ্য বাজেটে কোনো গঠনগত ঘোষণা না করে যে লক্ষীর ভান্ডারের টাকা দিয়ে তিনি এতদিন মা-বোনেদের ভোট নিয়ে এসেছেন, সেই লক্ষীর ভান্ডারকেই টার্গেট করে সেখানে টাকার পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করলো এই রাজ্যের সরকার। এমনিতেই সাধারণ মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তৃণমূল সরকার থাকলে ছেলেমেয়েদের চাকরি হবে না। তারা ওই লক্ষীর ভান্ডারের মত বিভিন্ন রকম প্রকল্প চালু করে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা মানুষের পকেটে গুঁজে দিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করবে। আজ বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই ভোট যেহেতু সামনে, তাই সামান্য কিছু টাকা বিভিন্ন প্রকল্পে বাড়ানো হবে বলে একটা আভাস দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর বাজেট ঘোষণার পরেই হুবহু মিলে গেল তার কথা। যার ফলে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এই সামান্য ৫০০ টাকা বাড়িয়ে কি লাভ হবে সাধারণ মা-বোনেদের? আর যেখানে রাজ্যের কোষাগারে নাকি টাকা নেই, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নাকি মহার্ঘ ভাতা দিতে পারছেন না, সেখানে তিনি এই চমকপ্রদ ঘোষণা করেন কি করে? এতে কি রাজ্য কোষাগারের ক্ষতি হচ্ছে না?
দীর্ঘদিন ধরেই একটা জল্পনা চলছে রাজ্যের বুকে যে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। কিন্তু অনেকদিন যাবৎ সেই রকম কোনো ঘটনা হয়নি। তবে আজ যখন রাজ্য বাজেট হচ্ছে এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেট, সেহেতু তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের একাধিক ক্ষোভ রয়েছে। ফলে তারা ভোট পাওয়ার জন্য সামান্য কিছু টাকা এক্ষেত্রে বাড়িয়ে দিতে পারে, এমনটাই বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সেটাই হলো। যেখানে লক্ষীর ভান্ডারের সাধারণ মহিলারা, যারা এতদিন ১০০০ টাকা করে পেতেন, তারা এবার মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন। অন্যদিকে এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ের মহিলারা, এতদিন যারা ১২০০ টাকা করে পেতেন, এবার থেকে তারা ১৭০০ টাকা করে পাবেন।
তবে রাজ্যের পক্ষ থেকে ভোটের আগে এই ঘোষণা যে শুধুমাত্র চমক এবং ভোট পাওয়ার একটা চেষ্টা মাত্র, সেই সম্পর্কে বুঝতে বাকি নেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধীদের। বিরোধীরা কটাক্ষ করে একটাই কথা বলছেন, এই সময় রাজ্যের কোষাগারের ক্ষতি হচ্ছে না? মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তো মহার্ঘ ভাতা দিতে চান না। আদালতের নির্দেশে এবার তাকে ফাঁপড়ে পড়তে হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই সেই বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা না করে তিনি যেভাবে লক্ষীর ভান্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাতা ভর্তুকির টাকা বাড়িয়ে দিলেন, তাতে তো তিনি ভোট কেনার চেষ্টা করছেন! এর ফলে তো তিনি বাংলার যুবসমাজের মেধা যুক্ত যুবক, যুবতীদের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়ে সামান্য কিছু টাকা পকেটে গুঁজে দিয়ে ভাবছেন, আবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন। কিন্তু এবার বাংলার মানুষ এই সামান্য ভাতার টাকা বৃদ্ধিতে ভুলবে না। বাংলায় লক্ষ্মী আনতে এবং লক্ষীর ভান্ডারকে ভরাট করতে ঘরের ছেলেমেয়েদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। আর সেটা তৃণমূল সরকারকে বিদায় না দিলে সম্ভব নয় বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
