Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

যাদবপুরে তুলকালাম! অরবিন্দ ভবন থেকে এবিভিপির ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ ঘিরে বড় কর্মসূচি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্যাম্পাসে বাম বনাম ডান মতাদর্শের সংঘাত এবং বিতর্কিত দেওয়াল লিখন বিতর্ককে কেন্দ্র করে আজ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) চত্বর। সমস্ত রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই আজ, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসনিক ভবন অরবিন্দ ভবনের গাড়ি বারান্দা থেকে এক নজিরবিহীন ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’র আয়োজন করে আরএসএস (RSS)-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় ছাত্র পরিষদ (ABVP)।বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার’ ডাক দিয়ে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন প্রচুর এবিভিপি সদস্য, সমর্থকসহ বহু জাতীয়তাবাদী মানসিকতাসম্পন্ন অধ্যাপক ও অশিক্ষক কর্মচারী। সবার হাতে ছিল জাতীয় তেরঙা পতাকা, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি এবং বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতিকৃতি। মিছিল চলাকালীন ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে কেঁপে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস চত্বর।

ক্যাম্পাসে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং বিতর্কিত দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে বিগত কয়েকদিন ধরেই যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল, আজকের কর্মসূচি ছিল তারই পাল্টা প্রতিরোধ। বিতর্কিত বামপন্থী স্লোগানগুলো কলকাতা পুরসভাকে দিয়ে চুনকাম করিয়ে মোছার পর—এদিন ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ভারতের সংবিধানের মূল সংস্করণে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা ঐতিহাসিক চিত্রগুলির প্রতিরূপ সেঁটে দেয় এবিভিপি কর্মীরা। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর মূল গেটে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বড় ছবিও স্থাপন করা হয়।

আজকের এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বহুমুখী রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। অরবিন্দ ভবন থেকে শুরু হয়ে এই ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ গোটা ক্যাম্পাস পরিক্রমা করে চার নম্বর গেটের সামনে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে বিজেপির প্রথম রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক হরিপদ ভারতীর স্মৃতিরক্ষার্থে একটি মেগা ‘জাতীয়তাবাদী সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। গত আগস্ট মাসেও যাদবপুরে বাম ও এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজকের এই হাইপ্রোফাইল ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ এবং বামেদের পাল্টা প্রতিরোধ আন্দোলন যাদবপুরের ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। যেকোনো ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে যাদবপুর থানার পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে শক্ত পুলিশি ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল।

Exit mobile version