প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্যাম্পাসে ছাত্র সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক সংকটে পড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ২০ আগস্ট ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ ৫ সদস্যের অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম বৈঠকটি হওয়ার আগেই সেই কমিটি কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। কমিটির শীর্ষ পদের পর এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদ প্রত্যাখ্যান করায় চরম বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বা প্রধান হিসেবে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারকে নিযুক্ত করতে চেয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই তিনি ইমেইল পাঠিয়ে সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ৭০ বছর বয়সী বর্ষীয়ান এই শিক্ষাবিদ নিজের আপত্তির পেছনে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণ দর্শিয়েছেন। অধ্যাপক শুভশঙ্কর সরকারের কথায়—”আমার ৭০ বছর বয়স। আমাকে মাঝে মাঝেই কলকাতার বাইরে যেতে হয়, কারণ আমার ছেলে ওখানে থাকে। স্বাভাবিকভাবে এই অবস্থায় পুরো বিষয়টা সশরীরে শুনে, তার ভিত্তিতে একটা দীর্ঘ তালিকা বা রিপোর্ট বানানো আমার পক্ষে সম্ভব না। এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত কারণ।” তবে শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, তাঁর এই নিয়োগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন আপত্তি তোলার পরদিনই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
চেয়ারম্যান শুভশঙ্কর সরকারের এই ইস্তফার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই কমিটির দ্বিতীয় সদস্যের তরফ থেকেও বড় ধাক্কা আসে। কমিটির অপর অন্যতম সদস্য অরুণাশিস গোস্বামীও এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে পাঠানো একটি মেইলে অরুণাশিস বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আপতত তাঁর পক্ষে এই গুরুদায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। উপাচার্য গোস্বামীর যুক্তি, তাঁর নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং সমাবর্তন নিয়ে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত। যেহেতু যাদবপুরের এই তদন্তের কাজটি অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি এবং চটজলদি এর নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তাই নিজের কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি এই তদন্ত কমিটি থেকে বিরত থাকছেন।
প্রথম বৈঠকের আগেই দুই শীর্ষ স্তরের শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসনিক প্রধান কমিটি থেকে পিছু হঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রক্রিয়া এখন বিশ বাঁও জলে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি ডিরেক্টর সৌম্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়সহ বাকি যে তিনজন সদস্য এই কমিটিতে রয়েছেন, তাঁদের নিয়ে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ ও দ্রুত গতিতে চালানো সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপাচার্য নতুন কোনো নিরপেক্ষ নাম বা আইনি বিশেষজ্ঞকে কমিটির শীর্ষ পদে আনেন কি না, এখন সেটাই দেখার।
