Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ১ ঘণ্টার ডেডলাইন! রাতারাতি নজিরবিহীন সুরবদল বিজেপি বিধায়কের, নেপথ্যে কোন ভয়?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ছাত্র সংসদের সাধারণ সভা (General Body Meeting) ঘিরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) এবং ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)-র সংঘর্ষে গত বুধবার রাত থেকেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনার চেয়েও রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ঝড় তুলেছে যাদবপুরের স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের অবস্থান বদলের বিষয়টি। ক্যাম্পাসের বাইরে তাঁর দেওয়া তীব্র বিবৃতির পরেই গভীর রাতে হস্টেল চত্বরে নজিরবিহীন তাণ্ডব শুরু হয় বলে সরব হয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। কিন্তু তার পরদিনই নিজের অবস্থান থেকে বিধায়কের এই ইউ-টার্ন বা সুরবদল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

গত বুধবার রাতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে এবং আহত এবিভিপি কর্মীদের দেখতে যাদবপুর থানায় পৌঁছন বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। শর্বরী মুখোপাধ্যায় ১ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে হুঙ্কার ছাড়েন— “অভিযুক্ত বাম ছাত্ররা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক, ১ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে। অন্যথায় তাদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হবে।” অভিযোগ, এই হুমকির কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের বাইরে বিশাল বহিরাগত ভিড় জমা হয় এবং মেইন হস্টেল লক্ষ্য করে পাথর ও জুতো বৃষ্টি শুরু হয়। ভাঙচুর করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পরিকাঠামো।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে প্রবল নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘটনার তীব্রতা এবং আইনি ব্যবস্থার আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হতেই গতকাল নিজের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সুর বদলেছেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। নিজের সাফাই দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন— “আমি বুধবার রাতে কোনো প্ররোচনামূলক কথা বলিনি, আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি ঘটনার রাতে কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি এবং ছাত্রদের মধ্যে কোনো হিংসা ছড়ানোর চেষ্টাও করিনি।” তাঁর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘নকশাল ও দেশবিরোধী শক্তির’ কারখানা বানিয়ে রাখা যাবে না, তিনি কেবল আহত ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে হাঙ্গামার প্রতিবাদ করেছিলেন।

বিজেপি বিধায়কের এই সাফাইকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন বাম ছাত্র নেতৃত্ব। এসএফআই ও সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন— “বিজেপি বিধায়ক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বহিরাগতদের জড়ো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করেছেন। হস্টেলের ভেতরে নিরীহ আবাসিক ছাত্রদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এখন আইনি মারপ্যাঁচে পড়ার ভয়ে তিনি নিজের বক্তব্য থেকে ডিগবাজি খাচ্ছেন।”এদিকে এই হিংসার ঘটনায় বিজেপি শিবিরের অন্দরেও তৈরি হয়েছে মতবিরোধ। বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যেখানে মন্তব্য করেছেন, “রাজনীতিকদের উচিত ছাত্র রাজনীতি থেকে দূরে থাকা”, সেখানে দিলীপ ঘোষ আবার ক্যাম্পাসে কড়া দাওয়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন। এই তীব্র রাজনৈতিক তরজার মাঝে যাদবপুরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সমস্ত পক্ষ।

Exit mobile version