Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“যাদের বসালেন, তারা কি দুর্নীতি মুক্ত?” এবার কি হাঁটে হাড়ি ভাঙতে চলেছেন পার্থ?

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতি করেছেন এবং সেই জন্য তিনি জেলে গিয়েছেন, এটা গোটা রাজ্যবাসী জেনে গিয়েছেন। তবে জেল থেকে ফিরে আসার পর আবার সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং যেভাবে তৃণমূল তাকে পাত্তা দিচ্ছে না, তাতে একা একা তিনি কি করবেন, তা নিয়ে সকলের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু তারপরেও আজ তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। যার ফলে বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলছেন, একটা মানুষের বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকলে সে এই ভাবে মাথা উঁচু করে বাইরে বেরোতে পারে না। কিন্তু এত দুর্নীতি করার পরেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেভাবে এই সমস্ত কাণ্ডকলাপ করে বেড়াচ্ছেন, তাতে তার লজ্জা বলতে কিছু নেই বলেই খোঁচা দিচ্ছে বিরোধীরা। কিন্তু তার সাথে সাথে বিরোধীদের মধ্যে আরও একটি কথা শুনতে পাওয়া যাচ্ছে যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় আজকে যে সমস্ত কথা বলেছেন, তা কি সত্যিই উড়িয়ে দেওয়া যায়? সত্যিই কি একা পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই দুর্নীতি করেছেন? এটা তো একটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। ফলে তিনি বাকি যারা দুর্নীতি করেছেন, তাদের নাম কেন এতদিন ধরে বলছেন না? এই প্রশ্ন সকলের মধ্যেই ছিলো। কিন্তু আজ সেই পার্থবাবু যে ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন, তারপর প্রশ্ন উঠছে যে, এবার কি তিনি সেই দুর্নীতি নিয়ে হাটে হাড়ি ভাঙতে চলেছেন?

আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে খবর করছে। যে মানুষটি বাংলা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন, যার জন্য প্রচুর যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও আজকে চাকরি হারাতে হয়েছে, সেই মানুষটিকে দেখতে যে বাঙালি মোটেই প্রস্তুত নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সকলের মধ্যেই একটা বিষয়ে চর্চা চলছে যে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় একা কি এই দুর্নীতি করতে পারেন? তিনি তো মন্ত্রিসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। কিন্তু একদম ওপর থেকে তার কাছে সবুজ সংকেত না আসলে কি তার একার পক্ষে এই দুর্নীতি করা সত্যিই সম্ভব ছিল? তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখন পার্থবাবুর সঙ্গে প্রবল দূরত্ব স্থাপন করা হয়েছে. কিন্তু তিনি কি তৃণমূলের কোনো গোপন খবর ফাঁস করে দেবেন? দুর্নীতি নিয়ে কি তার কাছে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে? এই রকম নানা প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মধ্যেই। আর আজ সেই ব্যাপারেই বড় ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজের বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরার পরিকল্পনা করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর সেখানেই সাংবাদিকরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। আর সেই রকমই একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সময় এলে যারা আমাকে কালিমালিপ্ত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব. আইনি বিষয়। তাই খুব একটা কিছু বলতে চাইছি না। শিক্ষা দপ্তর একটি স্বশাসিত সংস্থা। আপনারা এত দুর্নীতি নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু যাদের বসালেন, তারা কি দুর্নীতি মুক্ত? আমি জোর গলায় বলছি, আমি কোনোরকম অনিয়ম, বেনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নই। কোনোদিন ছিলাম না।” আর এখানেই বিরোধীদের প্রশ্ন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে তার চেয়ারে যাকে বসানো হয়েছে, তার দিকেই কি ইঙ্গিত করতে চাইলেন তিনি? নাকি ওই অন্যান্য শিক্ষা দপ্তর সংক্রান্ত যে সমস্ত বিভাগ রয়েছে, যাদের নাম এতদিন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলো, তাদের বদলে যাদেরকে বসানো হয়েছে, তাদের দিকেই প্রশ্ন তুললেন তিনি? তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মনে এই দুর্নীতি নিয়ে যে অনেক গোপন তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্য ফাঁস করলে যে অনেকের মুখোশ খুলে যাবে, তা তার এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Exit mobile version