Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

যাহ্, দিল্লি গিয়েও লাভ হলো না? কমিশনে পাত্তা না পেতেই বৈঠক বয়কট মমতার?

 

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে আইনের শাসন নয়, শাসকের আইন চলে। তবে মুখ্যমন্ত্রী যদি ভেবে থাকেন যে, গোটা দেশেই তার নির্ধারিত করা আইন চলবে, তার নির্ধারিত করার নিয়ম অনুযায়ীই চলতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, তাহলে হয়ত তিনি ভুল করছেন। আর এটা হয়ত তিনি দিল্লি যাওয়ার আগে বুঝতে পারেননি। তাই ভেবেছিলেন, দিল্লি গিয়ে তিনি চোখ রাঙানি দেখাবেন, নির্বাচন কমিশনের দরজায় যাবেন, আর কমিশন তার কথামত কাজ করতে শুরু করবে। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো বিদ্রোহ করে, কোনো চিৎকার, চেঁচামেচি করে লাভের লাভ যে কিছু হবে না, তা আজ দিল্লিতে নির্বাচনের কমিশনের দপ্তরে যাওয়ার পরেই খুব ভালো মতই বুঝে গিয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই বাইরে বেরিয়ে এসে নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করার পাশাপাশি চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। গোটা ঘটনার গতি প্রকৃতি দেখে অন্তত তেমনটাই দাবি করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত লাভের লাভ কিছু করতে পারলেন না। নির্বাচন কমিশন তার কোনো বাহানাকে মান্যতা দেয়নি জন্যেই রাতারাতি বৈঠক ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসে এই ধরনের নতুন নাটক শুরু করে দিলেন তিনি।

আজ সকাল থেকেই দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে বঙ্গভবনে গিয়ে দিল্লী পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে তিনি কিছুক্ষণ আগেই যাদের তিনি এসআইআরে মারা গিয়েছে বলে সেই পরিবার পরিজনকে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের সকলকে নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে যান। এক ঘন্টার বেশি সময় তিনি সেখানে ছিলেন। আর তারপরেই বাইরে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী যে ধরনের কথা বললেন, তাতেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তার কোনো ধরনের বায়নাক্কা নির্বাচন কমিশন বরদাস্ত করেনি। আর সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন তার কোনো কথা শুনছে না বুঝেই শেষ পর্যন্ত অলআউট অ্যাটাকে নাম নেমে পড়লেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করলেন যে, বৈঠকে তাদের অসম্মান করা হয়েছে। আর সেই কারণেই তারা এই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন।

এদিন নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি। আমাদের অসম্মান করা হয়েছে, অপমান করা হয়েছে।” বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত দাবি নিয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন, সেই সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন খুব ভালো মতই গোটা বিষয়টি উপলব্ধি করেছে। তারা খুব ভালো মতই জানে যে, রাজ্যে এসআইআরের নাম করে যে হয়রানির বিষয়টা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে সেখানে তার দাবি জানাবেন, এমনকি তিনি বলবেন যে, এভাবে এসআইআর করা ঠিক নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রশাসনের মুখ্যমন্ত্রী, সেই প্রশাসনের আধিকারিকরাই এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে তারাই যে মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করছে, সেই খবর কমিশনের কাছেও রয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রক্রিয়াকে বন্ধ করানোর দাবিকে সামনে রেখে কিছু মানুষকে নিয়ে গিয়ে যতই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানান না কেন, কমিশন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই কথায় ভোলেনি। আর তা বুঝতে পেরেই পরিস্থিতি কোনোভাবেই তার পক্ষে আসবে না ভেবেই শেষ পর্যন্ত নিজের মেজাজ সপ্তমে করে সুর চড়িয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই বলে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসলে তার এই দিল্লি সফরের পুরোটাই যে নিটফল জিরো হয়ে গেল এবং কোনোভাবেই যে তার দাবি-দাওয়া প্রাধান্য পাবে না, তা বুঝতে পেরেই যে মুখ্যমন্ত্রীর মন খারাপের জেরে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ট মহল।

Exit mobile version