Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জঙ্গিপুরে রামনবমীর মিছিলে উত্তেজনা: রণক্ষেত্র এলাকা, পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। মিছিল চলাকালীন দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষ, ইটবৃষ্টি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের পাশাপাশি এলাকায় নামাতে হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে জঙ্গিপুরের ফুলতলা মোড় এলাকা দিয়ে যখন রামনবমীর একটি শোভাযাত্রা এগোচ্ছিল, সেই সময় কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মিছিলটি একটি নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করার সময় আচমকাই ওপর থেকে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করা হয়। এর প্রতিবাদে অন্য পক্ষও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে।

দফায় দফায় ইটবৃষ্টির জেরে ফুলতলা মোড় ও সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা রাস্তার ধারের বেশ কিছু দোকান ও সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ইটের আঘাতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং সাধারণ পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটোছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জঙ্গিপুর জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে হয়। বর্তমানে পুরো এলাকাটি নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি রুট মার্চ জারি রয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শান্তি বিঘ্নিত করার দায়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার প্ররোচনা বা গুজবে কান না দেওয়ার এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার কড়া আবেদন জানানো হয়েছে।

Exit mobile version