প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পঞ্চায়েত হোক বা বিধানসভা—ভোট মানেই লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষের অধিকার প্রয়োগের লড়াই। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (Jitushol Primary School) ভোটকেন্দ্রে যা ঘটল, তা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ভোটার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসারদের। সকাল বেলায় ভোট শুরুর আগেই বুথের একদম দোরগোড়ায় হাজির এলাকার ‘সেলিব্রিটি’ তথা ত্রাস দাঁতাল হাতি ‘রামলাল’।
আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল এলাকায় সকাল থেকেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেছিলেন। ঠিক সেই সময়ই জঙ্গল থেকে সটান লোকালয়ে চলে আসে রামলাল। সোজা গিয়ে দাঁড়ায় জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের একদম সামনে। হাতিটিকে দেখামাত্রই বুথ চত্বরে হুলস্থূল পড়ে যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররা ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন। অনেক ভোটকর্মীও মুহূর্তের জন্য আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল এলাকায় হাতির উপদ্রব নতুন নয়, কিন্তু খোদ বুথের মুখে এমন ‘অনাহুত অতিথি’ আসায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বন দফতরের কর্মীরা। তাঁদের সাথে যোগ দেয় ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) এবং স্থানীয় ‘হুলা পার্টি’। যেহেতু রামলাল শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত হলেও একটি বন্য প্রাণী, তাই তার নিরাপত্তা এবং ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল বনকর্মীদের মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ কৌশলে হাতিটিকে বুথ চত্বর থেকে সরিয়ে জঙ্গলের দিকে পাঠানোর কাজ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফের স্বাভাবিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঝাড়গ্রাম জেলায় বর্তমানে প্রায় ২০০-র কাছাকাছি হাতি বিচরণ করছে। হাতির উপদ্রব এখানে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু। সম্প্রতি বন দফতরের তৎপরতায় ৩৮টি হাতিকে দলমা রেঞ্জে ফেরত পাঠানো হলেও ‘রেসিডেন্ট’ হাতি হিসেবে রামলালের মতো বেশ কিছু দাঁতাল এলাকায় থেকে গিয়েছে। আজকের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, ভোটের লড়াইয়ের মাঝখানেও জঙ্গলমহলের মানুষের নিত্যসঙ্গী এই বন্যপ্রাণী আতঙ্ক।
বর্তমানে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি বন কর্মীরাও কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে বুথে পৌঁছাতে পারেন।
