প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড় এলাকায় বালি ও পণ্যবাহী ট্রাক থেকে বেআইনিভাবে ‘তোলা’ বা টাকা আদায়ের এক চক্রের পর্দাফাঁস করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)। খোদ এক পুলিশ কনস্টেবলের অধীনে এই তোলাবাজি চক্র চলত। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্নীতি দমন শাখার একটি বিশেষ টিম ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে অভিযুক্ত কনস্টেবল এবং তাঁর নিযুক্ত ৩ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ওই পুলিশ কনস্টেবলের নাম রতন প্রামাণিক। এই অভিযানে ধৃত ৩ এজেন্টের কাছ থেকে তোলাবাজির বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে।
দুর্নীতি দমন শাখা বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ পাচ্ছিল যে, ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড় মোড় এলাকায় চলাচলকারী বালি বোঝাই ট্রাক ও লরি আটকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে মোটা অঙ্কের বেআইনি টাকা বা ‘তোলা’ আদায় করা হচ্ছে। এই চক্রটিকে ধরতে এসিবি-র গোয়েন্দারা রাতে ছদ্মবেশে চিল্কিগড় এলাকায় ওত পাতেন। লরি থেকে তোলার টাকা নেওয়ার সময় গোয়েন্দারা হাতেনাতে ৩ জন এজেন্ট বা দালালকে পাকড়াও করেন। ধৃত দালালদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি ফোন নম্বর অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে ‘Jhargram Manager’ (ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার) নামে সেভ করা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, এই ‘ঝাড়গ্রাম ম্যানেজার’ আসলে ওই পুলিশ কনস্টেবল রতন প্রামাণিক। দালালের সূত্র ধরেই এরপর ওই কনস্টেবলকেও গ্রেফতার করা হয়।
এসিবি (ACB) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক থেকে বেআইনিভাবে তুলে রাখা নগদ প্রায় ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার এই বড়সড় পদক্ষেপের পর জেলা পুলিশ প্রশাসনের অন্দরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই কনস্টেবল এবং দালালদের আড়ালে পুলিশ প্রশাসনের অন্য কোনও আধিকারিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি এই তোলাবাজি চক্রের সুবিধাভোগী ছিলেন কি না। ধৃতদের আজই ঝাড়গ্রাম আদালতে পেশ করা হবে।
