প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পাঁচ আসনে অবশেষে আজ হয়ে গেল মনোনয়ন দাখিল। যেখানে চারটি আসনের তৃণমূলের চারজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেন অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হয়েছে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার নাম। আজ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে সেই রাহুলবাবু নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন। আর যারা এতদিন বলতে শুরু করেছিলেন যে, শুভেন্দুবাবু রাহুল সিনহার এই প্রার্থী হওয়ার জন্য খুশি নয় বা বিজেপির মধ্যে এর ফলে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তারা আজ এই ঐক্যবদ্ধ ছবি দেখে অনেকটাই হতাশ হবেন বলেই মনে করছেন সমালোচকরা।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার চার আসনে প্রার্থী বহু আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন নাম সামনে আসছিলো। তবে সবথেকে বেশি চর্চায় ছিলেন রাহুল সিনহা। অবশেষে দীর্ঘদিনের পুরোনো মুখ হিসেবে পরিচিত বিজেপি এই বরিষ্ঠ নেতার ওপরেই ভরসা রেখেছে। সম্প্রতি তার নাম রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আজ সেই রাহুল সিনহা মনোনয়নপত্র জমা দিতে রাজ্য বিধানসভায় আসেন। আর সেখানেই তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই শুরু হয় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব।
সূত্রের খবর, প্রথমে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলেও রাহুল সিনহার মনোনয়নপত্রে বেশ কিছু ত্রুটি ছিলো বলে খবর আসে। পরবর্তীতে আবার তা সংশোধন করা হয়। আর তারপরেই বিধানসভার সচিব, যিনি এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার, তার কাছে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা করেন বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী রাহুল সিনহা। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঐক্যবদ্ধ ছবিই বিজেপি কর্মীরা বারবার করে দেখতে চেয়েছিলেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন সামনে। আর তার আগে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি বিরোধী কিছু রাজনৈতিক দল এই প্রচার করতে শুরু করেছিলেন যে, বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী রাহুলবাবু হওয়ার কারণে শুভেন্দুবাবু এবং তার অনুগামীরা খুশি নয়। কিন্তু গোটা বিজেপি দল যে ঐক্যবদ্ধ এবং তারা যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে একসাথেই পথ চলছে, তা আরও একবার সমালোচকদের সেই প্রচারকে মিথ্যে করে দিয়ে প্রমাণ করে দিলো পদ্ম শিবির বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
