প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র জোড়াসাঁকো নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিজেপি এই কেন্দ্রে তাদের ঘরের ছেলে এবং কাউন্সিলর বিজয় ওঝাকে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। আর প্রার্থী হয়েই বিজয় ওঝার “তৃণমূলের বিসর্জন নিশ্চিত” এবং “পদ্মফুল উপহার দেব”–এই হুঙ্কারের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক অঙ্ক। জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বড় অংশ হিন্দিভাষী ভোটার। ঐতিহাসিকভাবে এই ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকে। বিগত লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা এলাকায় বিজেপি লিড পেয়েছিল। বিজয় ওঝা নিজে একজন হিন্দিভাষী মুখ এবং এলাকার দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতা হওয়ায় এই ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করা তাঁর পক্ষে সহজ হবে।
বলা বাহুল্য, বিজয় ওঝা বর্তমানে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ফলে এলাকার অলিগলি এবং মানুষের সমস্যা তাঁর নখদর্পণে। তৃণমূলের ক্ষেত্রে অনেক সময় ‘বহিরাগত’ বা এলাকার বাইরের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ থাকে। সেখানে বিজয় ওঝা একজন ‘ভূমিপুত্র’ এবং সার্বক্ষণিক লড়াকু কর্মী। তাঁর ব্যক্তিগত জনসংযোগ তৃণমূলের ভোট মেশিনারিতে ফাটল ধরাতে পারে। অন্যদিকে জোড়াসাঁকো এলাকায় তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। বিধায়ক বনাম স্থানীয় নেতাদের ঠাণ্ডা লড়াই প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে। তৃণমূলের এই অন্তর্কলহ সরাসরি বিজেপির পক্ষে যাবে। সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিনের একই মুখ দেখে ক্লান্ত। বিজয় ওঝার “বিসর্জন” ডাক মূলত এই প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগানোর কৌশল। পাশাপাশি পোস্তা, বড়বাজার এবং জোড়াসাঁকোর ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলি এই বিধানসভার প্রাণকেন্দ্র। জিএসটি বা কেন্দ্রীয় নীতির কারণে কিছুটা ক্ষোভ থাকলেও, আইন-শৃঙ্খলা এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। বিজেপি ক্যাডার হিসেবে বিজয় ওঝা বরাবরই ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে বড়বাজার ও পোস্তার ব্যবসায়ী মহলের একটি বড় অংশ এবার পদ্ম শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজয় ওঝা নিজেকে ‘সৈনিক’ হিসেবে তুলে ধরে একটি আবেগপ্রবণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এটি কোনো নেতার লড়াই নয়, বরং সাধারণ কর্মীর লড়াই। আর এই বার্তা বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ‘ডু অর ডাই’ মানসিকতা তৈরি করেছে। এর ফলে ভোটের দিন বুথ ম্যানেজমেন্টে বিজেপি এবার অনেক বেশি শক্তিশালী থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোড়াসাঁকোয় লড়াই এবার সরাসরি ৫২ শতাংশ বনাম ৪৮ শতাংশের। যদি বিজেপি তাদের লোকসভার লিড ধরে রাখতে পারে এবং বিজয় ওঝা তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ ব্যবহার করে তৃণমূলের হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারেন, তবে ৪ ঠা মে জোড়াসাঁকোয় পদ্মফুল ফোটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। বিজয় ওঝার “বিসর্জন” হুঙ্কার আসলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য শেষের আগাম বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
