প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (ISF) জোট প্রক্রিয়া এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ আট মাস ধরে নিরন্তর আলোচনার পরেও আসন ভাগাভাগি এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দুই শিবিরের মতভেদ এখন তুঙ্গে। আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকির সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যেখানে তিনি সরাসরি জোট না হওয়ার জন্য বামেদের দিকেই আঙুল তুলেছেন।
নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর দল ৩৩টি আসনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি আসনে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত হলেও ৪টি গুরুত্বপূর্ণ আসন—নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া পশ্চিম, ভগবানগোলা এবং মুরারই—নিয়ে এখনও কোনো রফাসূত্র মেলেনি। নওশাদ বলেন, “আমরা জোটের স্বার্থে দীর্ঘ আট মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। আসন নিয়ে জটের কারণেই প্রক্রিয়াটি আটকে রয়েছে। তবে এবার যদি শেষ পর্যন্ত জোট ভেঙে যায়, তবে তার দায় সম্পূর্ণভাবে বামেদেরই নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, কাকে প্রার্থী করা হবে তা আইএসএফ নিজেই ঠিক করবে এবং অন্য দলের তাতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
জোটের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের আইএসএফ-এ যোগদান এবং ক্যানিং পূর্ব আসন থেকে তাঁর প্রার্থিতা। আইএসএফ নেতৃত্ব তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও, বামফ্রন্ট—বিশেষ করে সিপিআই(এম)—এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। বামেদের অভিযোগ, যে নেতার বিরুদ্ধে অতীতে বাম কর্মীদের ওপর হিংসাত্মক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে জোটের সঙ্গী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিতর্কিত ভাবমূর্তির কোনো নেতাকে প্রার্থী করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য লড়াই গড়ে তোলা যাবে না। বামেদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইএসএফ যদি তাদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে পুনর্বিবেচনা না করে, তবে এককভাবে লড়াই করার পথও খোলা রয়েছে।
আইএসএফ ইতিমধ্যে তাদের ৩৩ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে প্রচারের ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, বামফ্রন্টও তাদের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বসে পরবর্তী রণকৌশল স্থির করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে এই জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জোটের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এখন দুই শিবিরের এই অনড় অবস্থান কি শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে, নাকি ২০২৬-এ বাম ও আইএসএফ আলাদা পথে হাঁটবে—তার উত্তর সময়ের অপেক্ষা।
