প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মানুষ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়। আর বিজেপিও একের পর এক নির্বাচনে বাংলায় ভালো ফল করার প্রত্যাশা নিয়েও যখন দিনের শেষে নিরাশ হয়ে গিয়েছে, তখন তারা অতীত থেকে অনেকটাই শিক্ষা নিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে কিভাবে নির্বাচন করলে তাদের জয় আসবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের পক্ষে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাদের সমর্থন করবে, এটা বিজেপি খুব ভালো মতই জানে। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনটা করাতে হবে। আর নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করাতে গেলে এই দলদাস পুলিশের ঝপর সবটা ছাড়লে হবে না। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে বাড়তি নজরদারি রাখতে হবে বাংলার ওপর এবং যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে, তাদের শুধুমাত্র বসিয়ে রাখলে হবে না। এতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এলেও তারা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারা পরিচালিত হতো। সেক্ষেত্রে সেই দলদাস প্রশাসনের থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মুক্ত করে প্রত্যেকটি বুথে যদি তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়, তাহলেই যে মানুষ ভোট দিতে পারবে, আর মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে যে দিনের শেষে বিজেপিই জিতবে, এই ব্যাপারে ওভার কনফিডেন্ট গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তাই আজ থেকেই রাজ্যে যখন কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই সেন্ট্রাল ফোর্স যত খুশি আসুক, এইভাবে নির্বাচন না করালে যে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে না, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ নির্বাচন করতে বারবার করে কমিশনের কাছে বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রচুর নাম বাদ যেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামীকাল একটি ভোটার লিস্ট প্রকাশ হবে। যার মধ্যে দিয়ে অনেকটাই বোঝা যাবে যে, কত নাম বাদ যেতে চলেছে ভোটার তালিকা থেকে। এমনিতেই তৃণমূল কংগ্রেস এই এসআইআরের ফলে যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছে। আর তার মধ্যেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই আজ থেকে রাজ্যের জেলায় জেলায় পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ এতদিন নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করলেও, এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আগে থেকেই এলাকা বুঝিয়ে দিয়ে তারা যাতে পুলিশের কথায় না চলে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করে তার একটা চেষ্টা কমিশনের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই পরিস্থিতিতে সেই বিষয় নিয়েই বড় মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন বুঝে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দিয়ে নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। সেই জন্য তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাবে। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী কতটা পাঠাবে, সেটা তাদের ব্যাপার। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, ফ্রি এবং ফেয়ার ইলেকশন করাতে হবে। আর এই ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করানোর জন্য যা যা করা উচিত, সেটা করতে হবে। প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দরকার। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে ভোট হওয়া সম্ভব নয়।”
