প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অন্তর্বর্তী বাজেটে চাকরির দিশা না দেখিয়ে ওই ভাতার পথেই হেঁটেছেন, তাতেই যুব সমাজের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, ভোটের আগেই যে সরকার ভাতার ওপর ভরসা রাখে, তারা ভোটে জিতলে যে আর চাকরি দেবে না, এটা নিশ্চিত। তাই যুবসাথী প্রকল্প নামে যে নয়া প্রকল্প আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে, যার ফর্ম ফিলাপ, সেটা যে বাস্তবে অন্তঃসারশূন্য হবে, তা সেই প্রকল্প ঘোষণার দিনেই জানিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি এর আগে যুবশ্রী প্রকল্পের পরিণতির কথা উল্লেখ করেও রাজ্যকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। আর যে রাজ্যে চাকরি নেই, সেখানে ওই মুখ্যমন্ত্রী দেড় হাজার টাকার ভাতার জন্য যে প্রকল্পের সূচনা করছেন, সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ এই সামান্য অর্থ পাওয়ার জন্যই ভিড় করবে। এটা খুব ভালো মতই জানেন শুভেন্দুবাবু। তাই তিনি একদিকে রাজ্যের এই ঢপের চপ নামক সারবতাহীন যুবশ্রী প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এক্ষেত্রে সকলেই ফর্ম ফিলাপ করুন। এমনটাও জানিয়ে দিলেন। পাশাপাশি যে ক্যাম্পে এই যুবশ্রী প্রকল্পের জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে যাবেন যুবক যুবতীরা, সেখানে রাজ্যজুড়ে বিজেপির যে নিয়োগ চায় বাংলা কর্মসূচি চলছে, সেই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাকরির দাবিতে চিঠি লিখুন বলেও আবেদন করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এই রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে সরানোর ক্ষেত্রে বেকার যুবকদের যন্ত্রণা যে সব থেকে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধীদের কাছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দিকে দিকে বিজেপি যুব মোর্চার পক্ষ থেকে নিয়োগ চায় বাংলা কর্মসূচি করা হচ্ছে। যে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকেও তাদের চাকরির দাবিতে লেখা চিঠি সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিচ্ছে বিজেপি। আর আগামীকাল থেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী যুবসাথী প্রকল্প চালু করছেন এবং বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প করে সেই প্রকল্প করা হচ্ছে, ঠিক তখনই সেই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে যারা যাবেন, তারা সাথে সাথে ওই নিয়োগের দাবিতে বিজেপি যুব মোর্চার কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সেখানে তাদের চাকরির কথা তুলে ধরে চিঠিটা জমা দিন বলে রাজ্যের যুবসমাজের কাছে আহ্বান জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আমি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের বলবো, যে যেখানে পারবেন, ফর্ম ফিলাপ করতে যান। নিশ্চিতভাবেই যান এবং সেখানে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ বিজেপি যুব মোর্চার যে পোস্ট কার্ড, সেই “চাকরি চায় বাংলা” এটাও ফিলাপ করে দিয়ে আসবেন। তাই আপনারা এই ভাঁওতাবাজ মুখ্যমন্ত্রী এই যুবসাথী ফর্ম ফিলাপ করবেন। সাথে সাথে বিজেপি যুব মোর্চার এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে এই পোস্ট কার্ড ফিলআপ করে সেখানে জমা করবেন। কারণ, এই মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিতে পারবে না। আর আমরা জানি, এপ্রিল মাসে আপনারা বিজেপিকে আনবেন। আর আমরাই চাকরি দেবো।”
