প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নদিয়া জেলার হরিণঘাটা পুরসভা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতার টাকা পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিজেপি কর্মীর মেয়েকে ফোনে চরম গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এর প্রতিবাদ করায় ওই বিজেপি কর্মীকে রাস্তায় আটকে বেধড়ক মারধর এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হরিণঘাটার রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
অভিযোগের মূলে রয়েছেন হরিণঘাটা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ। স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর দাবি, তাঁর মেয়ে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন এবং সেই মোতাবেক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা ঢোকে। অভিযোগ, গত শুক্রবার মেয়েটি যখন টিউশনি পড়াতে গিয়েছিলেন, তখন কাউন্সিলর তাঁকে ফোন করেন। অত্যন্ত উগ্র স্বরে কাউন্সিলর জানতে চান, তিনি কেন এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন? বিজেপি কর্মীর মেয়ের দাবি অনুযায়ী, ফোনের ওপার থেকে তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে অবিলম্বে পুরসভায় গিয়ে দেখা করার জন্য ধমক দেওয়া হয়। রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা হওয়ার কারণেই কি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হয় একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত বিজেপি কর্মী এবং কাউন্সিলরের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। বাবা হিসেবে ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তুলছেন, “আপনি আমার মেয়েকে ফোন করবেন কেন?” জবাবে কাউন্সিলরকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলতে শোনা যায়, “হান্ড্রেড পার্সেন্ট করব, হান্ড্রেড পার্সেন্ট করব।” এই কথোপকথন ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্কের সূত্রপাত। বিরোধী শিবিরের দাবি, সরকারি প্রকল্পের টাকা যে কোনো যোগ্য নাগরিক পেতে পারেন, কিন্তু বিজেপি করার কারণে কেন সুবিধা নেওয়া হলো—এই মানসিকতা থেকেই কাউন্সিলর চড়াও হয়েছেন।
ফোনের বাদানুবাদ শেষ পর্যন্ত শারীরিক নিগ্রহে রূপ নেয় বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী বিজেপি কর্মীর অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, শনিবার তিনি যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কাউন্সিলর হারাধন ঘোষ ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। বিজেপি কর্মীর কথায়, “আমাকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এরপর চড়, থাপ্পড়, লাথি ও ঘুষি—বসে যা পেরেছে করেছে। আমাকে তুলে নিয়ে যাব, মার্ডার করে দেব বলে হুমকি দিয়েছে।” আক্রান্ত ব্যক্তির আরও দাবি, গত পুরসভা নির্বাচনের সময়ও তাঁকে একইভাবে অপহরণ করা হয়েছিল, আর এবার ফের তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালানো হলো। এই ঘটনায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে ভোটের মুখে এই ঘটনা শাসক শিবিরের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর হারাধন ঘোষের কাছে এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম প্রতিক্রিয়া চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, হরিণঘাটা পুরসভার পুরপ্রধান দেবাশিস বসু জানিয়েছেন যে তিনি বিষয়টি এখনও বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, “আমি জানি না কী ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ তো অনেক ওঠে, তার সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। সমস্ত বিষয়টা জেনে নিই, পরে যা বলার বলব।” ইতিমধ্যেই আক্রান্ত বিজেপি কর্মী হরিণঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ভাইরাল ভিডিওটির উৎস ও বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন, তাই পুলিশি রিপোর্ট আসার পরেই ঘটনার প্রকৃত সত্য প্রকাশ্যে আসবে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব, যা হরিণঘাটার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
