প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকালই শেষ হয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটগ্রহণ। আর ইভিএম বন্দি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল সবচেয়ে বিস্ফোরক বুথ ফেরত সমীক্ষা। প্রখ্যাত সমীক্ষক সংস্থা টাইমস নাও-জেভিসি (Times Now-JVC) সাফ জানিয়ে দিল—বাংলায় কোনো ‘সুনামি’ নেই, বরং তৈরি হতে চলেছে চরম অনিশ্চয়তা। সোজা কথায়, ২০২৬-এ বাংলার বিধানসভা হতে চলেছে ত্রিশঙ্কু (Hung Assembly)!
জেভিসি-র সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি বা তৃণমূল—কেউ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার (১৪৮) ছুঁতে পারছে না। তাদের পরিসংখ্যান বলছে: বিজেপি: ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন (সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনা)। তৃণমূল কংগ্রেস: ১৩১ থেকে ১৫২টি আসন (কাঁটায় কাঁটায় টক্কর)।
বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য: ০ থেকে ২ টি আসন (কার্যত অস্তিত্বহীন)।
বাংলার রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি এমনটা দেখা যায়নি। কিন্তু জেভিসি-র এই তথ্য প্রমাণ করছে যে: তৃণমূলের ১০ বছরের শাসন বনাম বিজেপির পরিবর্তনের ডাক—বাংলার মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন। কারোর পক্ষেই একতরফা রায় নেই। যদি বিজেপি ১৩৮-এ আটকে যায় আর তৃণমূল ১৫০ পায়, অথবা উল্টোটা হয়, তবে ১-২টি আসন পাওয়া নির্দল প্রার্থীরাই হয়ে উঠবেন আগামীর ‘কিংমেকার’। বিজেপি গতবারের তুলনায় আসন অনেক বাড়ালেও এককভাবে ক্ষমতা দখল করতে পারছে না।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ম্যাজিক এবার ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে হিমশিম খাচ্ছে।
জেভিসি-র এই রেঞ্জ অনুযায়ী, ফলাফল যদি তৃণমূলের নিম্নসীমা (১৩১) এবং বিজেপির উচ্চসীমা (১৫৯) স্পর্শ করে, তবে বিজেপি সরকার গড়বে। কিন্তু ফলাফল যদি মাঝপথে কোথাও আটকে যায়, তবে বাংলা এক অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। কার হাতে থাকবে নবান্নের চাবিকাঠি? উত্তর মিলবে আগামী ৪ ঠা মে চূড়ান্ত গণনার দিন।
