প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের কফিনে কি তবে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়ে গেল? ২৬ এর মহারণের আগে কোচবিহারে মমতার দুর্গে এমন এক মহাপ্রলয় শুরু হলো, যা সামাল দেওয়ার সাধ্য হয়ত খোদ কালীঘাটেরও নেই। মঙ্গলবার তৃণমূলের ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই কার্যত বারুদে আগুন লেগেছে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে। বাদ পড়েছেন ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ক। কিন্তু কোচবিহারে রবী-ঘনিষ্ঠ খোকন মিঞার দলত্যাগ যেন দলের কঙ্কালসার চেহারাটাকেই জনসমক্ষে নগ্ন করে দিল।
পুরনো চাল কি তবে আর ভাতে বাড়ছে না? কোচবিহার ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির দাপুটে সদস্য তথা তৃণমূল কিষাণ ক্ষেতমজুর সংগঠনের জেলা সভাপতি খোকন মিঞা মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল ছেড়ে হাত ধরলেন জাতীয় কংগ্রেসের। দল ছাড়ার সময় কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েন জন্মলগ্ন থেকে থাকা এই লড়াকু নেতা। তাঁর এই অশ্রু কি তৃণমূলের পতনের অশনি সংকেত? খোকন মিঞার বিস্ফোরক অভিযোগ, “তৃণমূল আর রাজনৈতিক দল নেই, ওটা এখন একটা কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে। যারা রক্ত দিয়ে, ঘাম ঝরিয়ে দলটাকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল, আজ তাদের কোনও সম্মান নেই। এসি ঘরে বসে থাকা একদল ভাড়াটে লোক এখন দল চালাচ্ছে।”
রাজনৈতিক মহলের তীব্র সমালোচনা, আইপ্যাকের (I-PAC) নির্দেশে যেভাবে পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের ছেঁটে ফেলা হচ্ছে, তাতে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। খোকন মিঞার মত নিচুতলার সংগঠক, যিনি কিষাণ ক্ষেতমজুর সংগঠনের হাল ধরেছিলেন, তাঁর এই প্রস্থান প্রমাণ করে দিচ্ছে যে—তৃণমূলে এখন ‘নতুন’ বনাম ‘পুরনো’র লড়াই চরমে। নেতার সাফ কথা, “পরিষেবা দেওয়ার বদলে এখন কোম্পানি চালানো হচ্ছে।” আর এই ‘কোম্পানি’ কালচারই কি তবে কোচবিহারে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরিয়ে দিল? নাটাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে এবার টিকিট দেয়নি দল। অভিমানে তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ইঙ্গিত পর্যন্ত দিয়েছেন। খোকন মিঞা যেহেতু রবী ঘোষের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত, তাই তাঁর এই দলত্যাগ আসলে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুগামীদের সম্মিলিত বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। কোচবিহারের আটটি বিধানসভা আসনেই এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে মূলত দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। আগামী ৪ মে হবে ভোটগণনা। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখে কোচবিহারের মত স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরণের বড় ভাঙন নিশ্চিতভাবেই বিজেপি বা বিরোধীদের হাত শক্ত করছে। যেখানে নিচুতলার কর্মীরাই ক্ষোভে ফুঁসছেন, সেখানে প্রার্থীরা কীভাবে প্রচার চালাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, টিকিট না পাওয়া অনেকেই এবং তাঁদের অনুগামীরা নির্দল বা অন্য দলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের এই ঘটনা কি তবে কেবল হিমশৈলের চূড়া? খোকন মিঞার এই কান্নার বদলা কি ৪ মে ভোটবাক্সে দেবেন কোচবিহারের মানুষ? সময় এবং ব্যালট বক্সই দেবে সেই উত্তর।
