Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিধানসভায় মিষ্টিমুখের ২৪ ঘণ্টাতেই ‘শাস্তি’? হঠাৎ প্রত্যাহার কাজল শেখের সব দেহরক্ষী! সুরক্ষাহীন বিধায়ক ছুটলেন স্পিকারের ঘরে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের রাজনীতিতে ফের এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। বিধানসভার লবিতে মমতা-তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ ‘রক্ষী-হীন’ করা হলো বীরভূমের হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখকে। আজ, ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে, বিধানসভায় একটি বৈঠকে ব্যস্ত থাকা অবস্থাতেই কাজল শেখ জানতে পারেন যে তাঁর সুরক্ষায় থাকা শেষ দু’জন পুলিশ নিরাপত্তা কর্মীকেও হঠাতই তুলে নিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনার পরেই চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে সরাসরি বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর দ্বারস্থ হয়েছেন হাঁসনের বিধায়ক।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজ্য বিধানসভার লবিতে এক বিশেষ রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি ধরা পড়েছিল। সেখানে মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যায় বিধায়ক কাজল শেখকে বিজয়ার মিষ্টিমুখ করাতে। বর্তমানের জটিল রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে এই মিষ্টিমুখের ঘটনার পর থেকেই তীব্র জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু সেই সৌজন্যের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ দুপুরে বিধানসভা চত্বর থেকেই তুলে নেওয়া হলো কাজলের নিরাপত্তা।

হঠাৎ করে নিরাপত্তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কাজল শেখ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মিষ্টিমুখের ঘটনাটির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া যাবে না, সেটা জানতাম না। বিধানসভায় সবার সঙ্গে সবার দেখা হয়। বিজয়ার পর শুভেচ্ছা বিনিময় বা মিষ্টিমুখ করা তো বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি! কিন্তু মিষ্টিমুখ করালে যে নিরাপত্তা রক্ষী তুলে নেওয়া হয়, তা পুলিশ-প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে।” তীব্র নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে সুরক্ষা চেয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন এবং বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের কাছেও প্রতিকার চেয়েছেন। আখরুজ্জামান তাঁকে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিধায়কদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, তাই তিনি বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানাবেন। অন্যদিকে, এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, “অমুক মিষ্টি খাইয়েছে বলে…” যা রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২১ সাল থেকে বীরভূমের রাজনীতিতে দাপুটে নেতা হিসেবে কাজল শেখের সঙ্গে ৬ জন নিরাপত্তারক্ষী ও পিএসও থাকত। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার পর তিনি ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরি এবং ২০২৬-এর শুরুতে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) নিরাপত্তা পাচ্ছিলেন। কিন্তু রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর নিরাপত্তা কাটছাঁট করা হয়। মাস দুয়েক আগে (আগস্ট ২০২৬) জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁর পাইলট ও স্কর্ট কার তুলে নিয়ে মাত্র ২ জন সশস্ত্র রক্ষী রাখা হয়েছিল। আজ সেই শেষ দু’জনকেও তুলে নেওয়ায় এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন হাঁসনের বিধায়ক। বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়েই এক বিধায়কের নিরাপত্তা এভাবে রাতারাতি তুলে নেওয়ার এই নজিরবিহীন ঘটনা বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক তীব্র আলোড়ন ও বড়সড় বার্তা তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version