প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল এসআইআরের পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি তো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনার না হলে তার আঙ্গুল কেটে দিয়ে আসতেন বলে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। প্রতিনিয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাষায় সম্বোধন করছেন। আর দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ফুল বেঞ্চ যখন গতকালই রাজ্যে এসেছিল, তখনও তৃণমূল তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত অসভ্যতা করে। যেখানে গো ব্যাক স্লোগান থেকে শুরু করে কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর আজ সকালেও সেই অসভ্যতা অব্যাহত রইলো। তবে কেউ অসভ্যতা করলে তার সঙ্গে পা বাড়িয়ে যে ঝগড়া করতে নেই তা নিজের আচরণ এবং ছোট্ট মন্তব্যের মধ্যে দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
আজ সকালেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু সেখানেও কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের বক্তব্য একটাই যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু এবার তাদের নাম বাদ গিয়েছে। আর এর সঙ্গেই দুইয়ে দুইয়ে চার করতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই বক্তব্য তো তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য। তাহলে কি তৃণমূলের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে আবার বিব্রত করার জন্য তিনি যখন কালীঘাট মন্দিরে যাচ্ছেন, তখন সেখানেও তাকে অসুবিধার মুখে ফেলার একটা চেষ্টা হলো? তবে এই ব্যাপারে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি বলেন, তার দিকেই সকলের নজর ছিলো। অবশেষে কালীঘাট মন্দির থেকে পুজো দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন তিনি।
সূত্রের খবর, এদিন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। আর তিনি ঢোকার মুখেই তাকে গো ব্যাক স্লোগান দিতে শুরু করেন কিছু মানুষ। পরবর্তীতে কালীঘাট মন্দির থেকে পূজো দিয়ে বাইরে বেরিয়ে। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “প্রত্যেক ভাই-বোনকে আমার নমস্কার। মা কালী সবাইকে যেন ভালো রাখেন।” আর তখনই এই বিক্ষোভ নিয়ে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করলেও, তিনি তাতে পাত্তাই দিলেন না। অর্থাৎ জ্ঞানেশ কুমার বুঝিয়ে দিলেন যে, কেউ পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করতে চাইলেও এবং অসভ্যতা করতে চাইলেও, তিনি তার কোনো প্রতিক্রিয়া দেবেন না। দিনের শেষে তেমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
