Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কালিয়াচকের ছায়া এবার হরিণঘাটায়! ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, ভোটের মুখে কি ‘মব-কালচারের’ স্বর্গরাজ্য বাংলা?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শান্ত বাংলা আজ অশান্তির আগ্নেয়গিরি। মাত্র কয়েকদিন আগেই মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় শিউরে উঠেছিল দেশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ নদীয়ার হরিণঘাটায় দুষ্কৃতী হামলার শিকার হলেন এক ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর ভাই। নির্বাচনের ডিউটি সেরে ফেরার পথে যেভাবে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে, তাতে প্রশাসনের কঙ্কালসার চেহারাটাই যেন আরও একবার প্রকট হয়ে উঠল।

গত ১ এপ্রিল মালদহের কালিয়াচক-২ বিডিও অফিসে যে তাণ্ডব চলেছিল, তা বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অজুহাতে এক বিশাল উন্মুক্ত জনতা সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দি করে রেখেছিল। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একে “গণতন্ত্রকে লাইনচ্যুত করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা” বলে আখ্যা দিয়েছে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই হরিণঘাটায় ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা প্রমাণ করছে—বাংলায় এখন সরকারি আধিকারিকদের গায়ে হাত তোলা যেন এক “নতুন স্বাভাবিক” বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নাকা চেকিংয়ের গুরুদায়িত্ব সামলে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট বুবাই দে ও তাঁর ভাই বাপি মজুমদার। অভিযোগ, হরিণঘাটা এলাকায় মাঝপথে একদল দুষ্কৃতী হঠাৎ তাঁদের পথ আটকায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, তাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এক বিশেষ ‘মব-কালচার’ বা গণ-হামলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে সরকারি আধিকারিকরা ভয় পান এবং অবাধ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি হয়। বিরোধীদের প্রশ্ন, যদি খোদ ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকরাই সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা দেবে কে?

ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই তৎপর হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—কার মদতে এই দুঃসাহস পাচ্ছে দুষ্কৃতীরা? নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা কি বড় কোনো অশান্তির ইঙ্গিত? পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অপরাধে দোষীদের কঠোর সাজা নিশ্চিত করা হবে। তবে বাংলার মাটিতে এই লাগাতার প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর হামলা যে আগামীর জন্য এক অশনি সংকেত, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version