Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“তল্লাশির নামে বিজেপির লোকেদের সাক্ষী করে এনেছে সিআইডি!” কালীঘাটে পৌঁছেই বিস্ফোরক দাবি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল মামলার তদন্তে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে সিআইডি-র হানা ঘিরে ছড়ালো তীব্র চাঞ্চল্য। তবে এই তল্লাশি অভিযানের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েই এবার এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী শিবিরের প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি দাবি, তল্লাশির সময় কোনো নিরপেক্ষ বা স্থানীয় বাসিন্দাকে না ডেকে, সিআইডি নিজেদের সাথে বিজেপির দু’জন কর্মীকে ‘সাক্ষী’ হিসেবে ভেতরে ঢুকিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডি আধিকারিকরা যখন ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কার্যালয়ের ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সেখানে পৌঁছান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভেতর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনো জায়গায় সার্চ বা তল্লাশি করার একটা নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম থাকে। স্থানীয় বা নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া চালাতে হয়। কিন্তু এখানে সিআইডি যা করেছে তা নজিরবিহীন। তারা নিয়ম ভেঙে বিজেপির দু’জন লোককে সাক্ষী হিসেবে নিজেদের সাথে করে ভেতরে ঢুকিয়ে এনেছে।” তিনি এই গোটা প্রক্রিয়াটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মারাত্মক অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। তল্লাশিতে কী পাওয়া যাচ্ছে তা দেখে ভয় পেয়েই এখন তদন্ত প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এমন মনগড়া ‘সাক্ষী’ তত্ত্ব খাড়া করছেন বিরোধী নেতারা। আইন আইনের নিয়মেই কাজ করছে এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের যোগ নেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) বা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহতি (BNSS) অনুযায়ী যেকোনো তল্লাশির ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্থানীয় সাক্ষী থাকা বাধ্যতামূলক। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আগামী দিনে এই মামলার আইনি গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালতে বড়সড় প্রশ্ন উঠে যেতে পারে। তবে সিআইডি-র পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Exit mobile version