প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি মঞ্চ নাকি অন্য শিবিরে যোগ দেওয়া দলত্যাগীদের হিসাব চুকানোর রণক্ষেত্র? রবিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার দলীয় সভা থেকে পূর্বতন শাসকদলের এক শীর্ষ নেতার চাঁছাছোলা আক্রমণ ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এবার একেবারে প্রকাশ্য রাজপথে। দলবদলু নেতাদের ‘বেইমান’ এবং ‘গদ্দার’ তকমা দিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আক্রমণের মূল নিশানা আর কেউ নন, স্বয়ং মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিড।
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল শিবিরের সমান্তরালে অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী শিবির। গত শনিবারই এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে মুর্শিদাবাদ জেলার ব্যাটন তুলে দেওয়া হয় অপূর্ব সরকার ডেভিডের হাতে। বিদ্রোহী শিবিরে ডেভিডের এই রাজকীয় এন্ট্রি এবং বড় পদ পাওয়াকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখছে না ঘাসফুল শিবিরের মূল নেতৃত্ব। আর তারই পাল্টা হিসেবে বেলডাঙার সভা থেকে তোপ দাগেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মঞ্চ থেকে সুর চড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “এই ডেভিড একাই গোটা মুর্শিদাবাদ জেলাটাকে রাজনৈতিক-ভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।” এখানেই থামেননি তিনি। দলের অন্দরের একাধিক পুরনো ক্ষতের কথা টেনে এনে তিনি আরও বলেন, “আজ যে হুমায়ুন কবীর দল ছেড়ে চলে গেছেন, তার পেছনেও ছিল এই ডেভিডের নোংরা রাজনীতি ও অত্যাচার।” এমনকি বহরমপুরের নবনির্বাচিত তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ দাবি করেন, ইউসুফও নাকি ডেভিডের ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে দরবার করেছিলেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তীব্র আক্রমণের পর স্বভাবতই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে নবাবের জেলায়। কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর পাল্টা খোঁচা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কল্যাণবাবুদের বিষয়টা বুঝতে বড্ড দেরি হয়ে গেল! ডেভিড যে দলের কতটা ক্ষতি করছে, তা আমি গত তিন বছর ধরে চিৎকার করে বলছিলাম, তখন কেউ কানে নেয়নি।”
এদিকে যাঁর নাম ঘিরে এত বড় বিতর্ক, সেই অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিক্রিয়া জানার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তা সম্ভব হয়নি। ২১ জুলাইয়ের ঠিক মুখে মুর্শিদাবাদের এই অন্দরমহলের যুদ্ধ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার।
